Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে দুই পরিবারকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে দুই পরিবারকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

দিনাজপুর প্রতিনিধি 
দিনাজপুর সদরের শশরা ইউনিয়নের নেমতারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুটি ঘর থেকে দুই পরিবারকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘর থেকে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বের করে দিয়ে তাতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে গত পাঁচ দিন ধরে ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বারান্দায় রোদ-বৃষ্টি ও মশা-মাছির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার সদরের নেমতারা আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে পরিবারটির মানবতার জীবন যাপনের সচিত্র প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সদর উপজেলার শশরা ইউনিয়নের তহশিলদার মানিক মিয়ার নেতৃত্বে গ্রাম্য পুলিশ তাদের ঘর থেকে মালামাল বের করে দেন। পরে ঘর দুটিতে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই ঘরের বারান্দায় থাকা অবস্থায় কয়েক দফা ভিজেও গেছেন তারা। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে রাত কাটাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

নেমতারা আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী জামাল-শান্তা দম্পতির চার মাস বয়সী একটি শিশু রয়েছে। শান্তা জানান, প্রায় তিন মাস আগে সন্তানকে নিয়ে তারা ওই ঘরে বসবাস শুরু করেন। ঘরটি যাদের নামে বরাদ্দ ছিল, তারা বয়সজনিত কারণে নিজেদের সন্তানদের কাছে চলে যান এবং তাদের সম্মতিতেই জামাল-শান্তাকে সেখানে থাকতে দেন।শান্তা বলেন, ‘আমাদের নিজেদের কোনো থাকার জায়গা নেই। ছোট শিশুকে নিয়ে তিন মাস ধরে এখানে বসবাস করছিলাম। হঠাৎ ঘর থেকে মালামাল বের করে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পাঁচ দিন ধরে সে ঘরের বারান্দায় চৌকি বিছিয়ে থাকছি। বৃষ্টি হলে শিশু নিয়ে ভিজতে হয়।

আরেক পরিবার আরমান-আঞ্জুর। তাদের রয়েছে দুটি ছোট সন্তান। তারাও একইভাবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছেন। আরমান বলেন, ‘আমি ভাড়ায় অটোরিকশা চালাই। আমাদের অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা নেই। কয়েক দিন ধরে সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে এভাবে থাকছি। ঘরে তালা ঝুলছে, অথচ আমাদের মাথা গোঁজার জায়গা নেই। পরিবার দুটির দাবি, তারা জানতেন ঘর দুটি তাদের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তবে যাদের নামে ঘর বরাদ্দ ছিল, তারা সেখানে বসবাস করতে না পারায় তাদের সম্মতিতেই দুই পরিবার সেখানে উঠেছিল। এ অবস্থায় তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে শিশুদেরসহ ঘর থেকে বের করে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

শশরা ইউনিয়নের তহশিলদার মানিক মিয়া বলেন, ‘নির্ধারিত অভিযোগের ভিত্তিতে জামাল-শান্তা ও আরমান-আঞ্জু পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে মালামাল বের করে নিতে বলা হয়েছে। তারা নিজেরাই মালামাল বের করে নিয়েছেন এবং আমাদের কাছে সময়ও চেয়েছিলেন। তবে তারা যে এভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমাকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আমি সেটিই পালন করেছি।

দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘ঘর দুটি ওই দুই পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ফলে সেখানে তাদের বসবাসের আইনগত বৈধতা নেই। তবে তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য বৈধভাবে একটি ঘরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। সরকারি ঘর অন্যের নামে বরাদ্দ থাকার কারণে তা হস্তান্তরের সুযোগ নেই। তবে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি অনলাইনে লাইভ করতে দেখেছি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে দ্রুত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad