Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

সঞ্জয় সাহা, গাইবান্ধা►
গাইবান্ধা শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা ও বাধ ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধ সংলগ্ন রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি। আবার শহরের ভেতর তীব্র যানজট এড়াতে এই বাঁধ দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মটর সাইকেল, রিক্সা ও বিভিন্ন মালের ডিলারদের  মালবাহী ভ্যান নতুন ব্রীজ হয়ে গাইবান্ধা - দাড়িয়াপুর- সুন্দরগঞ্জ রোড ও খানকাহশরীফ সহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকে।

এই বাধটি দীর্ঘদিন যাবত গাইবান্ধা শহর সহ বাধ তীরবর্তী মানুষকে  বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে আসছে। বাঁধ নির্মানে সম্পূর্ণ বাধ মাটি দিয়ে তৈরি না করে মাটির সাথে বালু ব্যবহার করায় এবং গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারনে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির ঢাল ও নদীর পানির তীব্র স্রোতে বাধের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ভাঙ্গন ও ফাটল। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর নদীর স্রোতে বাধের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন ও ফাটল।  বাঁধ বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত ও ফাটল। এতে করে চরম হুমকির মুখে রয়েছে স্থানীয় বসতবাড়ি, ও চলাচলকারী মানুষ।  বাধের এমন করুন অবস্থার কারনে মাঝেমধ্যে এই রাস্তায় চলাচলের কারনে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হবার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে বাঁধ সংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন নামে এক মহিলার সাথে কথা হলে তিনি প্রতিকার প্রতিবেদককে জানান- যতদিন হলো বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক ততদিন হলো বাধ ভাঙতেছে। বাঁধের বিভিন্ন যায়গায় যায়গায় গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার রাস্তার এই করুন অবস্থার কারনে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো  দূর্ঘটনাও ঘটে। আমরা তাদের পরিচর্যা করে পাঠিয়ে দেই। এই বাঁধ দ্রুত সংস্কার দাবি জানিয়ে বলেন, বাধ যদি ভাঙ্গে তাহলে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে যাবে। তখন আমরা কই থাকব।

আবার আরেক বাসিন্দা "রমজান আলী" জানান-এই  বাঁধের পাশেই আমার বাসা। জন্মই আমার এখানে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাঁধ নির্মানকরা  ঠিকাদারকে দোষারোপ করে বলেন- বৃষ্টির পানির স্রোতে বাধ ভাঙ্গছে। ১০ হাত পর পর এই ভাঙ্গন।  প্রথম যখন এই বাঁধ নির্মান করে তখন মাটি দিয়ে করেছিল। পরে ২০২০ অথবা ২০২১ সালে বাধ কেটে বালু দিয়ে বাঁধ তৈরি করেছে। বাঁধের যে জায়গায় মাটি আছে শুধু সেই জায়গা ভাঙ্গেনি। যেখানে যেখানে বালু ব্যবহার করেছে সেখানে বাঁধ ভাঙ্গে। এখন প্রতিবছরই বাধ ভাঙ্গে। টেন্ডার হয়, সংস্কার হয়। কিন্তু বাধ টেকসই করার মত কাজ হয়না।

বাঁধ মাটি যেখানে আছে শুধু সেখানেই ভাল আছে, আর বালুর জায়গায় ভাঙ্গছে। নদীর পানি যাচ্ছে আবার আসছে। বর্ষাকালে নদীর পানি ভরে যেয়ে বাধ ভাঙ্গে তখন বাধ সংলগ্ন বাসাবাড়ি সহ শহর নদী গর্ভে  বিলীন হবে। এতে করে  আমরা সহ গাইবান্ধা শহর হুমকির মুখে আছে।  পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটি দিয়ে কাজ করেনা। বাঁধের ভাঙ্গন স্থানগুলো দ্রুত মাটি দিয়ে সংস্কার করার জন্য তিনি গাইবান্ধা সদর-২ আসন এমপি সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধর্তন  কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী "আবু সায়েম শাফিউল ইসলাম " এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রতিকার প্রতিবেদককে জানান- গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাধ সংস্কারের জন্য টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে, আগামী ২ থেকে ১ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। এ নিয়ে চিন্তা করিয়েন না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad