
নিজস্ব প্রতিবেদক ►
গাইবান্ধার নিম্ন আয়ের মানুষ সহ জেলা শহরের বিভিন্ন আয়ের মানুষের বিভিন্ন রোগের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ও ভরসাস্থল গাইবান্ধা আধুনিক ( গাইবান্ধা জেনারেল) হাসপাতাল। অথচ সরকারের এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি অব্যবস্থাপনায় পরিনত হয়েছে। হাসপাতালের পরিবেশ দেখে এখানে চিকিৎসাই নিতে মন চায়না মানুষের। হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড, বাথরুম ময়লা, দূর্গন্ধযুক্ত, অপরিচ্ছন্ন হওয়ায় বাথরুম করা তো দূরে থাক, চিকিৎসা নিতেই মানুষের রুচি হয়না। এখানে অসুস্থ মানুষ সুস্থ হওয়ার চেয়ে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন ও দূর্গন্ধ হওয়ায় আরও বেশি করে অসুস্থ হচ্ছে মানুষ।
সরকার হাসপাতালটি মানুষের চিকিৎসা উপযোগী করতে ব্যবস্থা নিলে বা আর্থিক অনুদান দিয়ে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন করলে সাধারণ মানুষ রুচির সাথে চিকিৎসা নিতে পারত। সে সাথে আধুনিক হাসপাতালের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধ, নতুন ভবনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স নিয়োগ না করার কারনে মানুষ ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেনা। এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা জেলার উদ্যোগে ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিস এলাকায় গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন,আধুনিক হাসপাতালের দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধ, নতুন ভবনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, পর্যাপ্ত ডাক্তার, নার্স নিয়োগ, হাম-ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুল ইসলাম রাজার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাজী আবু রাহেন শফিউল্ল্যা খোকনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ প্রনব চৌধুরী,জিয়াউল হক জনি,মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, এ্যাড: মোস্তফা মনিরুজ্জামান, এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী,রেজাউল করিম জুয়েল,অবঃ সেনা সদস্য সেকেন্দার আলী, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নেয়ামুল আহসান পামেল, সাংবাদিক উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্তী ছাড়াও আবু তাহের চৌধুরী , রেজাউল করিম রেজা, ছাত্রনেতা পরমানন্দ দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন- গাইবান্ধা একটা কৃষিভিত্তিক এলাকা,এখানকার মানুষ হতদরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের। তারা দারিদ্রতার কারণে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দিনের পর দিন। গাইবান্ধা জেলায় শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। সেই সরকারি হাসপাতালটি নিজেই একটি রোগীর মত। গাইবান্ধা জেলার সর্বোচ্চ হাসপাতাল গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল। সেখানে পর্যাপ্ত ডাক্তার , নার্স ঔষধ নেই। নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জর্জরিত।আধুনিক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অভাবে এখানে সাধারণ জনগণ ভালোভাবে সেবা পাচ্ছে না।
ইমারজেন্সি সময়ে রংপুর, বগুড়া যেতে হয়। নিম্ন আয়ের মানুষদের রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা করানো খুবই ব্যয়বহুল এবং কষ্টসাধ্য। ফলে তারা উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। এখানকার মানুষের দোড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর জন্য একটি মেডিকেল কলেজ খুবই প্রয়োজনীয়। এই অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের একটি স্বপ্ন মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা। সেই সাথে গাইবান্ধায় আধুনিক হাসপাতাল এর অব্যবস্থাপনা দুর্নীতি ,অনিয়ম বন্ধ করে এবং নতুন ভবন চালু করার ও ডেঙ্গু, হাম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। জনগণের জনদুর্ভোগ কমাতে অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার অপসারণ এর দাবিও জানান। শেষে গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।