Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১২ ঘন্টা আগে

গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ২৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ১৬ জনের

গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ২৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, বাতিল ১৬ জনের

গাইবান্ধার তিন আসনে সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল—ছবি: মাধুকর।

আবু সায়েম শান্ত►

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৪৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। এতে ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং বিভিন্ন কারণে বাকী ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ও শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং ১৬ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র সঠিক না থাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) শ্রী নিরমল, বিভিন্ন কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) সামিউল ইসলাম, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকাসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মেহেদী বিদ্যুৎ ও সুজাউদ্দৌলা সাজুসহ মোট ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় পার্টির মনোনীত ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ফারুক আলম সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)’র রাহেলা খাতুন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ, এ এইচ এম গোলাম শহীদ রন্জুসহ ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। 

এদিকে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, জামায়াতের আব্দুর রহিম সরকার, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির কাজী মশিউর রহমান এবং বিএনপির মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনসহ ৫ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। 

অন্যদিকে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে বিভিন্ন কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় জনতার দলের মনজুরুল হক, সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান ও এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদিসহ ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এছাড়া ৭ জন প্রার্থী বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, জামায়াতের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, ইসলামী আন্দোলনের এ টি এম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বী চৌধুরীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে দলীয় মনোনয়নপত্র সঠিক না থাকায় সিপিবির মিহির কুমার ঘোষ ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদের, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের এ কে এম গোলাম আযমসহ ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাকী পাঁচ বৈধ প্রার্থীরা হলেন- জনতার দলের শাহেদুর জাহান, জামায়াতের আব্দুল করিম, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশীদ সরকার, বিএনপির আনিসুজ্জামান খান বাবু এবং বাসদ (মার্কসবাদী)’র আহসানুল হাবীব সাঈদ।

এছাড়া গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১০ জন। এর মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন- শিক্ষকতা পেশায় জড়িত থাকায় জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল, দলীয় মনোনয়নপত্রের কাগজপত্র সঠিক না থাকায় জাতীয় পার্টির মাহফুজুল হক সরকার ও ইসলামী আন্দোলনের রমজান আলীর মনোনয়ন বাতিল, সমর্থনকারী ভোটারের সংখ্যায় অসংগতি থাকার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা আক্তার ও মোস্তফা মহসিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তাছাড়া বাকী ৫ জন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বাসদ (মার্কসবাদী)’র পরমানন্দ দাস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শরিফুল ইসলাম এবং আমজনতার কওছর আজম হান্নুর মনোনয়নপত্র বৈষ ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের তারিখ ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad