Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

গাইবান্ধায় এক মাসে তিন নদীগর্ভে ৯ স্কুল, ভাঙনের মুখে আরও ৬

গাইবান্ধায় এক মাসে তিন নদীগর্ভে ৯ স্কুল, ভাঙনের মুখে আরও ৬

ইউএনবি ►
ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই মাত্র এক মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে এসব বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও পাঠদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে আরও ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ভাঙনের মুখে। সব মিলিয়ে ১৫টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গেল মঙ্গলবার সকালে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলেছে। এতে লাখ লাখ টাকার বিল তোলা হলেও বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘স্কুলটি রক্ষার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কে শোনে কার কথা। সবাই ঘোরে টাকার পেছনে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রক্ষায় লোক দেখানো কাজ করে বিল তুলে চম্পট দেয়। শেষ পর্যন্ত তিস্তা নদীর পেটে চলে গেল স্কুল ভবন। এতে শত শত শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।’ স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়টি রক্ষায় পাউবোর সঙ্গে যোগাযোগ করে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা ভাঙন ঠেকাতে পারেনি। এরই মধ্যে তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় ভবনটি নদীগর্ভে চলে যায়।

এদিকে, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাঙনেও চলতি মৌসুমে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার চর চৌমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর উপজেলার মোল্লারচর এলাকার সীতাসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফুলছড়ি উপজেলার চর পিপুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কটকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট নয়টি বিদ্যালয় গত এক মাসে তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনে এসব বিদ্যালয়ের অনেক স্থাপনা ও আসবাবপত্র নদীতে চলে গেছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি, বেঞ্চ ও অন্যান্য সামগ্রী স্থানীয় শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, নদীগর্ভে বিলীন হওয়া নয়টি বিদ্যালয়ের অন্তত দেড় হাজার শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়নি। সরকারি হিসাবে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

স্থানীয়রা জানান, কোনো কোনো বিদ্যালয়ের জন্য নির্জন স্থানে অস্থায়ীভাবে চালা তৈরি করা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল বা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ। অনেক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষকদের উপস্থিতিও নেই। আবার চরাঞ্চলের প্রভাবশালীদের মধ্যে বিদ্যালয়গুলো কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নিয়েও টানাপোড়েন চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ভাঙনের মুখে থাকা আরও ছয়টি বিদ্যালয় নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এগুলো হলো: চর পশ্চিম খাটিয়ারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেতকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাউয়াবাদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটিয়ারভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চর ডাকুমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব বিদ্যালয়ের আঙিনা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ও ভাঙন পৌঁছে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ের টিন, বেড়া ও খুঁটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, বিদ্যালয়গুলো রক্ষায় স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙন থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষায় স্থানীয়রা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলার পর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কারণে ওই এলাকার অনেক মানুষ নিজেদের বসতভিটা, বাড়িঘর ও আবাদি জমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এখন বিদ্যালয়গুলোও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার দাস বলেন, ‘ভাঙনে বিলীন হওয়া স্কুলগুলো সরিয়ে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুলের ভবন সরানো সম্ভব হয়নি, সেগুলো শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিগগিরই স্থানান্তর করা হবে।’ নদীভাঙনে স্কুল বিলীন হলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটা স্বাভাবিক নয়। অনেক বিদ্যালয় নির্জন স্থানে অস্থায়ী চালার নিচে কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হলেও সেখানে প্রয়োজনীয় আসবাব নেই। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত যান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad