Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

গাইবান্ধায় গ্রামীণ ডাকঘরের বেহাল দশা

গাইবান্ধায় গ্রামীণ ডাকঘরের বেহাল দশা

বোনারপাড়া প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর বেহাল দশা দীর্ঘদিনের। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কোথাও বাড়ির ভেতরে, কোথাও কাপড়ের দোকানে, আবার কোথাও নামমাত্র জায়গায় চলছে গ্রামীণ ডাকঘরের কার্যক্রম। নেই নিজস্ব ভবন, পর্যাপ্ত আসবাব কিংবা সেবাগ্রহীতাদের বসার ব্যবস্থা। ফলে ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এ সেবা কার্যক্রম অনেকটা নামেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রধান ডাকঘর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১১৪টি গ্রামীণ ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ ডাকঘরগুলো জয়পুরহাটের অধীনে পরিচালিত হয়। জেলার অপর ছয়টি উপজেলা গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের অধীনে। এসব ডাকঘরের অধিকাংশেরই নেই নিজস্ব অবকাঠামো। ফলে ডাক বিভাগের কর্মীরা ব্যক্তিগত বা ভাড়া করা জায়গায় সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা প্রধান ডাকঘরের অধীনে থাকা গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর মধ্যে পলাশবাড়ী উপজেলায় ২১টি, সুন্দরগঞ্জে ১২টি, ফুলছড়িতে ২টি, বোনারপাড়ার অধীনে ৫টি, নলডাঙ্গার অধীনে ৭টি, বামনডাঙ্গার অধীনে ১৬টি, ভরতখালীর অধীনে ৩টি, সাঘাটার অধীনে ৪টি এবং সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৯টি ডাকঘর রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১১৪টি গ্রামীণ ডাকঘরের মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন গ্রামীণ ডাকঘরের চিত্র আরও করুণ। অনেক ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বসতবাড়ির একটি কক্ষ থেকে। কোথাও আবার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই জায়গায় ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে। এতে একদিকে যেমন ডাক বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও পড়ছেন ভোগান্তিতে। গ্রামীণ ডাকঘরের কর্মীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর দায়িত্ব পালন করেও তারা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান না। অল্প বেতনে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের আশ্বাস ও প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখছেন না তারা। উল্ল্যাসোনাতলা গ্রামীণ ডাকঘরে সেবা নিতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবা গ্রহীতা জানান, চিঠিপত্র তেমন না থাকলেও কিছু কাজ তো রয়েছে যা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নিতে হয় কিন্তু অনেক সময় সময়মতো পাওয়া যায় না।

চকদাতেয়া গ্রামীণ ডাকঘরের ডাকপিয়ন আমজাদ বলেন, মাত্র ৩৩৫ টাকা বেতন দিয়ে চাকরিজীবন শুরু করেছি। দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছি। আশায় আশায় আছি-কবে আমাদের চাকরি জাতীয়করণ হবে। এত বছর পরও আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি।  উল্ল্যাসোনাতলা গ্রামীণ ডাকঘরের পোস্টমাস্টার হাসান বলেন, আমরা অল্প বেতনে চাকরি করছি। আমাদের খোঁজ কে রাখে? গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক এমএ মনিরুজ্জামান বলেন, জেলার মধ্যে ১০টি বিভাগীয় ডাকঘরে বিল্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ভবানীগঞ্জসহ কয়েকটি ডাকঘরের নিজস্ব ভবন আছে। তবে গ্রামীণ ডাকঘরগুলোর অবস্থা অনেকটাই লাজুক। পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় ডাকঘরের ভবনসহ অবকাঠামো আরও বাড়ানো হতে পারে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad