Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

চোখের সামনত চলি গেল বাপ-দাদার বসতভিটা

চোখের সামনত চলি গেল বাপ-দাদার বসতভিটা

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
চোখের সামনত পলকের মধ্যে চলি গেল, বাপ-দাদার বসতভিটা। মুই কিছুই করবার পানু না। খালি চাইয়া চাইয়া দেখনু। সারারাত ঘুম জাগি, ঘরের মালছামানা ও চালের টিন খুলি নিছম। তা না হলে ঘর সমেত নদীত চলি গেল হয়। সিমেন্টের খুটিগুলা সরবার লোক পাম নাই। এখন আর ক্যাইও আইসে না। ভোট আইলে কত কথা কয়। হ্যামরা কারও দোষ দেই না। সগ হ্যামর কপালের দোষ।

গত সোমবার চোখের সামনে নিমিষের মধ্যে তিস্তার তীব্র ভাঙনে বাপ-দাদার বসতভিটা নদীগর্ভে বিলিনের দৃশ্য দেখে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরের মো. ফরমান আলী। তার বয়স এখন ষাট বছর। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে পাঁচবার তাদের বসতভিটা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। তিস্তার চরের মধ্যে এই জায়গাটা ছিল তার বাপ-দাদার একমাত্র স্মৃতি। বর্ষাকাল আসলে যেন চরবাসিদের জন্য নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। কিন্তু করার কিছু নেই, প্রশাসন নিরব। সেই সাথে জনপ্রতিনিধিদের নেই খোঁজ খবরের বালাই।

টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে স্বরণকালের ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চরবাসি। এদিকে পানি বাড়তে থাকায় তিস্তার চরের নিচু এলাকা সমুহ প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন মানুষজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেনি।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন কমতে শুরু করেছে। নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad