
অনলাইন ডেস্ক ►
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের পর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার। বুধবার (স্থানীয় সময়) তিনি এ কথা বলেন। শুমার বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কমাতে কাজ করবে তার দল। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শুমার।
তিনি বলেন, নির্বাচনে এই জয় সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও তৈরি হয়েছে। শুমার বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জন্য আমাদের পাঁচটি শব্দ রয়েছে। স্বস্তি আসছে।’ আগের নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে এসব সন্দেহ উপেক্ষা করেই ডেমোক্র্যাটরা তাদের লক্ষ্য ধরে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। শুমার বলেন, এখন তাদের প্রধান কাজ হবে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ কমানো।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক পরিবার আর্থিক চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘মার্কিন পরিবারগুলো ভীষণ দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তারা ভাবছে, কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তেল কিনবে, নাকি সন্তানদের খাওয়ানোর জন্য বাজার করবে? পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার খরচ দেবে, নাকি শীতকালে ঘর গরম রাখতে বিদ্যুৎ বিল দেবে?’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, আমরা খরচ কমাতে কঠোর পরিশ্রম করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে জয়ের কারণ হিসেবে ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন শুমার। তার মতে, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি জানান, দলের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নেতারা নির্বাচনী প্রচারের পরিকল্পনা করতে একসঙ্গে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মানুষের সমস্যা বোঝেন, এমন প্রার্থীদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। শুমারের অভিযোগ, রিপাবলিকানরা সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের দাবি বুঝতে পারেননি। তারা মানুষের প্রয়োজনের চেয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে শুমার ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। শুমার বলেন, ‘ইরানে আমরা কেন যুদ্ধ করছি, তা মার্কিন জনগণ কিছুতেই বুঝতে পারছে না।
তিনি (ট্রাম্প) কখনোই বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। তিনি প্রতিদিন, এমনকি প্রতি মিনিটে নিজের অবস্থান বদলান। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহার করার কথাও জানান শুমার। এ ক্ষেত্রে সরকারের অর্থ বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চান তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ বন্ধ করব। যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ইতিমধ্যে কয়েকজন রিপাবলিকানও আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠাতারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় হিসেবে অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে দিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, মার্কিন জনগণের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট যেন যুদ্ধে জড়াতে না পারেন।’
ট্রাম্প আইন ভঙ্গ করলে বা মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শুমার। পাশাপাশি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কথা জানান তিনি। শুমার বলেন, ‘ট্রাম্প যখনই মার্কিন জনগণের ইচ্ছা বা আইন অমান্য করবেন, তখনই আমরা তদন্ত শুরু করব, তাকে আদালতে নিয়ে যাব এবং আইন প্রণয়নের নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলব।’ ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সীমাহীন ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলে জানান শুমার।
তার মতে, ভোটাররা তাদের জীবনযাত্রার উন্নতি করার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাকে নিয়ে নয়। এটি মার্কিন জনগণকে নিয়ে। তারা কী চায়, তাদের কী প্রয়োজন এবং তাদের সাহায্য করতে আমরা কী করতে পারি, সেটিই এখানে মূল বিষয়। খুব সহজ কথা। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দলটির অবস্থান আরো শক্ত করেছে। দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে যাচ্ছে দলটি। এতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর আরও কঠোর নজরদারি চালানোর সুযোগ পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত ও শুনানির আয়োজন করতে পারবে তারা। অন্যদিকে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকলে আইন প্রণয়ন এবং প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে।