Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

জেলের জালে আকর্ষণীয় সোলজারফিশ

জেলের জালে আকর্ষণীয় সোলজারফিশ

অনলাইন ডেস্ক ►
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে আকর্ষণীয় সোলজারফিশ নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। আকর্ষণীয় লালচে বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের মাছটি প্রথমে আলীপুর মৎস্য বন্দরে নেওয়া হয়। পরে গবেষেণার জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিএসটিইউ) সংরক্ষণ করা হয়েছে।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

জানা গেছে, মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়। ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।

মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি। ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত সুস্থ সাগর প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সোলজারফিশের বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, মাছটি সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় বসবাস করে। দিনের বেলায় আশ্রয়ে থাকলেও রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি সামুদ্রিক প্রজাতি।

আমাদের উপকূলীয় জেলেদের জালে এটি খুব কম ধরা পড়ে, তাই স্থানীয়ভাবে এটি মানুষের কাছে অপরিচিত। এ ধরনের মাছ ধরা পড়া বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। জেলেদের এমন ভিন্নধর্মী বা অচেনা প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যায়।

এদিকে মাছটিকে গবেষণার জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পিএসটিইউ) ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রাজিব সরকার মাছটি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad