
অনলাইন ডেস্ক ►
বাংলাদেশে মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে ধাপে ধাপে বিদায় নিতে যাচ্ছে ২জি নেটওয়ার্ক (2G network shutdown roadmap Bangladesh)। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) গৃহীত এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের পর থেকে প্রচলিত ২জি বাটন ফোন আর কাজ করবে না (2G Network Phase Out in Bangladesh)। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটি টুজি হ্যান্ডসেট (6 crore 2G button phones in Bangladesh) পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমে আসলেও, দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক শিল্প এবং সস্তা ফোনের বাজার চরম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। ২জি সেবা বন্ধের সময়সীমা ও রোডম্যাপ (BTRC 2G Phone Ban and Sale Deadline Schedule)
দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ ও ফোরজি প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা পথনকশা নির্ধারণ করেছে:
নতুন মডেলের অনুমোদন বন্ধ: ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো ২জি বাটন ফোনের মডেলের অনুমোদন দেবে না বিটিআরসি (BTRC 2G button phone new model approval update)।
উৎপাদন বন্ধের সময়সীমা: ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে ২জি মোবাইল ফোন সেট উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে (2G feature phone manufacturing ban date BD)।
বিক্রি বন্ধের সময়সীমা: ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বাজারে ২জি ফিচার ফোন বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে (2G button phone sale ban June 2027)।
নেটওয়ার্ক বন্ধের চূড়ান্ত তারিখ: গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ২জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে (2G network shutdown December 2029)।
দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষকে ফোরজি প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকার ইতোমধ্যে মাত্র ৫,০০০ টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন (Affordable 5000 Taka 4G smartphone in Bangladesh) বাজারে আনার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মোবাইল অপারেটরদের সুবিধা ও হ্যান্ডসেট শিল্পের আশঙ্কা (Impact on Mobile Operators and Local Handset Manufacturers)
১. তরঙ্গ দক্ষতার বৃদ্ধি: ২জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ফোরজি ও ফাইভজি প্রযুক্তিতে (4G 5G spectrum efficiency BD) ব্যবহার করা সম্ভব হবে। গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো টেলিকম অপারেটরদের ডেটা নেটওয়ার্কের মান উন্নত হবে এবং ভয়েস ওভার এলটিই (VoLTE network service) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে।
২. দেশীয় প্রযুক্তিশিল্পে ধাক্কা: বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই ২জি ফিচার ফোন, যা মাত্র ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিপরীতে সাশ্রয়ী ফোরজি স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় সাড় ৯ হাজার টাকা। ২জি বন্ধ হলে দেশের নিম্নআয়ের গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (MIOAB) প্রতিনিধিরা।
২জি নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে বিটিআরসি প্রধান ও মোবাইল অপারেটরদের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে ২জি সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেশের মোবাইল খাতের জন্য একটি বড় পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবে বিটিআরসি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার বিশাল খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। পাশাপাশি ২জি তরঙ্গের (2G spectrum) সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে ফোরজি ও ফাইভজি ডেটা নেটওয়ার্কে, যা অপারেটরদের ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।
টেলিকম খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন:
বাংলালিংক: প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, “টুজি থেকে ফোরজি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিসিয়েন্সি (Spectrum Efficiency) অনেক বাড়াতে পারবো।”
রবি আজিয়াটা: রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম জানান, “যত তাড়াতাড়ি টুজি থেকে ফোরজি করতে পারবো, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা মূলত ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি; ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন ঐচ্ছিক (Optional) পর্যায়ে চলে এসেছে।”