Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১৮ ঘন্টা আগে

ধুলোবালি উড়িয়ে ফুলছড়ির চরাঞ্চলে শিশুদের ফুটবল উন্মাদনা

ধুলোবালি উড়িয়ে ফুলছড়ির চরাঞ্চলে শিশুদের ফুটবল উন্মাদনা

ভবতোষ রায় মনা ►

বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলা প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল হাওয়া, আর পায়ের নিচে তপ্ত বালুচর। সুযোগ-সুবিধা আর আধুনিক খেলার মাঠের বালাই নেই, তবুও দমে নেই ফুলছড়ির চরাঞ্চলের একঝাঁক প্রাণোচ্ছল শিশু। এক টুকরো গোলক আকৃতির বলকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে তাদের হাজারো স্বপ্ন। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে এখন নিয়মিত দেখা মিলছে শিশুদের এমন ফুটবল উন্মাদনা।

সরেজমিনে উপজেলার গজারিয়া, ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দুর্গম চরগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের সূর্য যখন পশ্চিমে হেলতে শুরু করে, চরের বিস্তীর্ণ বালুচর হয়ে ওঠে এক একটি ফুটবল স্টেডিয়াম। গোলপোস্ট হিসেবে কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে দুটি বাঁশের কঞ্চি, আবার কোথাও রাখা হয়েছে দুটি বড় ইট অথবা মাটির স্তব। কোনো জার্সি নেই, দামি বুট জুতো নেই-অধিকাংশ শিশু খালি পায়েই মেতে উঠছে ফুটবলের জাদুতে।

চরাঞ্চলের এই শিশুদের কেউ মেসি, কেউ নেইমার আবার কেউ এমবাপ্পের ভক্ত। স্থানীয় শিশু রাশেদ মিয়া (১২) জানায়, আমাদের তো বড় মাঠ নাই, বালুর ওপরেই খেলি। বল ফেটে গেলে সবাই মিলে টাকা তুলে নতুন বল কিনি। ফুটবল খেললে আমাদের খুব আনন্দ হয়। তবে এই আনন্দের পেছনে রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা। চরের এই শিশুদের কোনো প্রশিক্ষক নেই, নেই সঠিক দিকনির্দেশনা। অভাবের সংসারে অনেক সময়ই তাদের খেলা ফেলে কাজে নামতে হয়। পরিবারের বড়দের সাহায্য করতে মাঠে বা নদীতে সময় দিতে হয়। তবুও দিনের শেষে একটু সময় পেলেই তারা ছুটে আসে খেলার মাঠে।

স্থানীয়রা জানান, চরের শিশুদের খেলাধুলার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ থাকলেও সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের প্রতিভা বিকশিত হচ্ছে না। সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে যদি চরাঞ্চলে ছোটখাটো টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো বা খেলার সরঞ্জাম দেওয়া হতো, তবে এই শিশুদের মধ্য থেকেও হয়তো বেরিয়ে আসত আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার।

সমাজকর্মী ও পল্লী চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, "চরের জীবন অনেক কঠিন। এখানকার শিশুরা ছোটবেলা থেকেই প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়। ফুটবল তাদের এই কষ্টের জীবনে একটু বিনোদনের খোরাক দেয়। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই প্রতিভারা অনেক দূর যেতে পারত।"
চরের শিক্ষক আব্দুল হালিম বলেন, নদীতে চর জাগে, আবার বিলীনও হয়। কিন্তু ফুলছড়ির এই চরাঞ্চলের শিশুদের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা যেন কখনো ফুরিয়ে যাওয়ার নয়। বালুচর উড়িয়ে তাদের এই ছুটে চলা স্বপ্ন দেখাচ্ছে নতুন এক সম্ভাবনার। প্রতিটি স্কুলে স্কুলে খেলার সরঞ্জাম দিয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার আয়োজন করা। এছাড়াও প্রতিটি স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক থাকাও প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad