Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

নওগাঁর আম বাগান পাহারায় বিশ্বস্ত দুটি কুকুর

নওগাঁর আম বাগান পাহারায় বিশ্বস্ত দুটি কুকুর

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►

এক সময় আম চাষ ছিলো বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান ফসল কিন্তু দিন দিন আম চাষ নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলাতে ছড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যেই আমের বাণিজ্যি রাজধানী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে উত্তরের খাদ্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ। বিশাল আমের বাগান। চারদিকে গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের বিদেশী রঙিন আম আর বারি-৪। 

প্রায় ১০ বিঘা জমির এই বিশাল মিশ্র আম বাগান পাহারায় কোনো মানুষ নয়, বরং দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছে দেশী জাতের দুটি বিশ্বস্ত কুকুর। নাম তাদের ‘লালু’ আর ‘কালু’। নওগাঁ পৌর এলাকার আনন্দনগর বাগবাড়ি এলাকায় এক পা হারানো ‘লালু’ ও তার সঙ্গী ‘কালু’র এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততা ও সাহসিকতা এখন পুরো এলাকায় অনন্য দৃষ্টান্তর তৈরি করেছে। 

বাগান মালিক আব্দুল আলিম জানান, শৈশবে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পরম যত্নে এই ছানা দুটিকে তিনি নিয়ে এসেছিলেন। সময়ের সাথে সাথে তারা হয়ে উঠেছে পরিবারেরই অংশ। এক দুর্ঘটনায় লালু এক পা হারালেও বাগান রক্ষায় তার সাহসিকতায় কমতি নেই একটুও। একটি লাল-সাদা রঙের লালু, অন্যটি কালো-সাদা কালু। ১০ বিঘা জমির এই আম বাগানে কাজ করার জন্য কর্মচারী থাকলেও, পাহারাদার হিসেবে এই দুই চতুষ্পদ প্রাণীর ওপরই শতভাগ ভরসা বাগান মালিকের। 

আব্দুল আলিম আর বলেন, শুধু বাগান পাহারা নয়, আলিমের মেয়ের সঙ্গী হয়ে তাকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কিংবা বিকেলে খেলাধুলা সবখানেই আছে এই দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী। লালু আর কালু থাকায় পাহারাদারের বাড়তি কোনো খরচই লাগছে না। বিশাল এই বাগানে পাহারাদারের পেছনে যে বেতন দিতে হতো, তা বেঁচে যাচ্ছে। শুধু পাহারাই নয়, পরিবারের সদস্যরা যা খান, লালু-কালুর পাতেও জোটে সেই একই খাবার। এদের হিংস্রতা কমাতে মাঝে মাঝে সেদ্ধ মাংস দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত টিকাসহ সব ধরণের যত্নও নেওয়া হয় তাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাগানে ঢুকতে গেলে আগে এই কুকুর দুটির বাধার মুখে পড়তে হয়। পরিবারের কেউ আসলে তারপরই কেবল ভেতরে ঢোকা যায়। চতুষ্পদ এই প্রাণীর এমন রাজকীয় বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ প্রতিবেশীরাও। 

নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি অফিসার ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, একসময় কুকুর পালন শহরকেন্দ্রিক ও শৌখিনতার বিষয় হলেও, এখন গ্রামীণ অর্থনীতি ও সুরক্ষায় মানুষ কুকুর পালন করছে। বাৎসরিক জলাতঙ্ক টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিলে এদের মাধ্যমে মানুষের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। নিয়মিত ভ্যাি•নেশন ও যত্ন নিলে এগুলো মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ ও উপকারী। সঠিক যত্ন আর ভালোবাসা পেলে হিংস্র প্রাণীও যে মানুষের পরম বন্ধু এবং বিশ্বস্ত পাহারাদার হয়ে উঠতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নওগাঁর এই ‘লালু’ আর ‘কালু’। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad