Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ৭-৪-২০২৬, সময়ঃ দুপুর ১২:২১

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব: আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা ‎

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব: আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা ‎

রবিউল ইসলাম শাকিল ► 
‎জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) ক্যাম্পাসে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে সান্ধ্যকালীন চলাফেরায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের চরম নিরাপত্তাহীন মনে করছেন।

‎সরেজমিনে দেখা গেছে, ৫৭ একরের এই ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এখন কুকুরের দখলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্য, সিঙ্গারা হাউজ, চারুদ্বীপ, বটতলা ও কদমতলা এলাকায় কুকুরের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ছাত্রদের আবাসিক হল বিদ্রোহী ও অগ্নিবীণা এবং ছাত্রীদের শিউলিমালা হলের সামনেও দিনরাত কুকুরের দল অবস্থান নেয়। কখনো কখনো এসব কুকুর পথচারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অতর্কিত তেড়ে আসছে, যা স্বাভাবিক চলাচলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীই সম্প্রতি কুকুরের তাড়া খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামীমা স্বপ্না তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, সন্ধ্যায় বন্ধুদের সাথে চারুদ্বীপে চা খেতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ ৫-৬টি কুকুর আক্রমণাত্মকভাবে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। প্রাণভয়ে দৌড়ে সে যাত্রায় কোনোমতে কামড় থেকে রক্ষা পেয়েছি।"

‎আরেক শিক্ষার্থী রাইয়ানুল করিম জানান, রাতে ক্যাম্পাসে একা বের হওয়া এখন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, "একদিন রাতে বের হয়ে কুকুরের দলের সামনে পড়ে যাই। ভয়ে এক জায়গায় ঠায় দুই ঘণ্টা বসে ছিলাম। একা যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলাম না।"

‎শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে কুকুরের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এবং তাদের আচরণ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যার পর হলে ফিরতে বা বের হতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত থাকছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কুকুরের টিকাদান (ভ্যাকসিনেশন) নিশ্চিত করা অথবা নিরাপদ উপায়ে কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

‎শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ‎উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad