
আমিনুল হক, ফুলছড়ি ►
ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ নাব্য সংকটে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ফুলছড়ি লটঘাটে নৌচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের এই নৌ-চ্যানেলটি দিয়ে আর নৌকা চলাচল করতে পারছে না। এতে করে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে ইজারা নেওয়া ঘাটটির ইজারাদার কর্তৃপক্ষ চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় যে ব্রহ্মপুত্র নদের বুকজুড়ে পানির স্রোত আর ঢেউয়ের খেলা ছিল, সেখানে এখন দিগন্তজোড়া ধু ধু বালুচর। সাবেক ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনের এলাকা থেকে শুরু করে চারদিকে যতদূর চোখ যায়, কেবল বালু আর বালু। নদীর বুক চিরে চলা নৌকার সারি, মাঝিদের হাঁকডাক কিংবা যাত্রীদের ভিড় সবই এখন অতীত। এক সময়ের কোলাহলমুখর এই ঘাট আজ নীরব, জনশূন্য ও প্রাণহীন। নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন এরেন্ডাবাড়ী, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর সহ চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজ, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা বাজার করতে এখন তাদের মাইলের পর মাইল তপ্ত বালুচর পেরিয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক শনিবার ও মঙ্গলবার বসা ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে আসা-যাওয়া এখন চরম দুর্ভোগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে যেখানে নৌকায় চড়ে অল্প সময়েই হাটে পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে পায়ে হেঁটে আসতে হচ্ছে।
নদীতে পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নৌকার মাঝি ও শ্রমজীবী মানুষ। ফুলছড়ি ঘাটের নৌকার মাঝি আনারুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ পারাপার হতো। কয়েক শতাধিক নৌকা চলাচল করত। এখন পানির অভাবে স্থানীয় ৬২টি নৌকা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। আমাদের কোনো আয় নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ফুলছড়ি লটঘাট ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার। ইজারাদার কর্তৃপক্ষ আকবার হোসেন আসিফ বলেন, বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে ঘাটটি ইজারা নিলেও বর্তমানে কোনো আয় নেই। নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি এখন বিশাল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।