Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৫ মিনিট আগে
  • ১৬ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ফুলছড়িতে মহিষ চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করে মারধর

ফুলছড়িতে মহিষ চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করে মারধর

ফুলছড়ি  প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে মহিষ চুরির অভিযোগে নৌকাসহ চারজনকে আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের কালুরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের গজারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ পরে চারজনকে ছেড়ে দেয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন ফজলুপুর ইউনিয়নের কদম আলী, দুদু মিয়া, সন্দেশ আলী ও ফেকু মাঝি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালুরপাড়া গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার কয়েকটি মহিষ ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা একটি চরে রাখা ছিল। দিনের বেলায় সেখানে মহিষগুলোকে খাবার দেওয়া হতো এবং রাতে চরে বাঁধা থাকত। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি নৌকায় করে কয়েকজন ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কুদ্দুস মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে ইসমাইলসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নৌকায় থাকা চারজনকে আটক করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে আটক চারজনকে একটি চরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের ‘মহিষ চোর’ হিসেবে দেখিয়ে ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলে যান এবং আটক চারজনকে গজারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেন।

মহিষের মালিক কুদ্দুস মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘মহিষ চুরির সন্দেহে চারজনকে আটক করেছিলাম। পরে বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত বুঝতে পেরে আমরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে মুচলেকা দিয়েছি। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ করিনি।’

এদিকে আটক ব্যক্তিদের স্বজনেরা মহিষ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, চারজন একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের আটক করে মহিষ চুরির অভিযোগ তোলেন। পরে তাঁদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।
স্বজনেরা আরও দাবি করেন, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে চারজনকে মহিষ চুরির ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। তাঁদের মারধর ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

কদম আলীর স্বজন আনছার আলী বলেন, ‘আমার ভাই কদম আলীসহ অন্যদের পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। মূলত তাঁরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সামাজিকতা শেষে নৌকায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নদীর মাঝখানে কুদ্দুস, তাঁর ছেলে ইসমাইলসহ পরিবারের কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাঁদের মহিষ বাঁধা ছিল। তাই মহিষ চুরির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, চারজনকে আটকের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে জানতে পারেন, সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁদের আটক করা হয়েছে। তাঁদের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়ার পর মহিষের মালিক কুদ্দুস মিয়া বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝি উল্লেখ করে লিখিতভাবে জানান। অভিযোগ না থাকায় পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।

গজারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আয়নাল বলেন, শনিবার রাতে স্থানীয় লোকজন চারজনকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করতে কেউ আগ্রহী না হওয়ায় পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad