Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

বিরলে শিক্ষকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

বিরলে শিক্ষকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

দিনাজপুর প্রতিনিধি ►
দিনাজপুর বিরলের রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলায় প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষককে আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট।

আজ মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে বিরল উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট বিরল উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি বিরল উপজেলা শাখার সভাপতি আনিসুজ্জামান মিলনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রহিম, কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি ইসহাক আলী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আজিজার রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মুনসেফ আলী, বোচাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বজলুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক মাজেদুর রহমান পাপ্পু, বিরল উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, শিক্ষক নেতা রফিকুল ইসলাম, ওয়াহেদুজ্জামানসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্লাস চলাকালে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষকদের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করা হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে একজন শিক্ষকের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

জোটের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রহিম বলেন, “শিক্ষকরা জাতি গঠনের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের কর্মস্থলে যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে শিক্ষার পরিবেশও স্বাভাবিক থাকতে পারে না। রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার থাকব। কর্মচারী ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি ইসহাক আলী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল বন্ধ করতে হবে। একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সদর উপজেলা শাখার সভাপতি আজিজার রহমান বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, এটি পুরো শিক্ষক সমাজের ওপর আঘাত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাবেদ আলী বলেন, “শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হবে। রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, হামলা বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। বিক্ষোভ সমাবেশের আগে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামের কাছে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনা, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

শিক্ষক নেতারা বলেন, “দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। অন্যথায় শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে গত ৩ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর বিরলের বিজোড়া ইউনিয়নের রঘুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে বহিরাগত কিছু সন্ত্রাসী প্রধান শিক্ষক মমিন উদ্দীনসহ আরোও কয়েকজন শিক্ষক কে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটিয়েছিল। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad