
অনলাইন ডেস্ক ►
গরমের দিনে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের জুড়ি নেই। কিন্তু বাজার থেকে একটি ভালো এবং মিষ্টি তরমুজ খুঁজে বের করা অনেক সময় বেশ ঝামেলার মনে হয়। আপনার কেনা তরমুজটি যেন অবশ্যই মিষ্টি ও রসালো হয়, তা নিশ্চিত করতে নিচের ৭টি কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
১. হলদে দাগ বা ‘ফিল্ড স্পট’ খেয়াল করুন: তরমুজের যে অংশটি দীর্ঘদিন মাটিতে পড়ে থাকে, সেখানে একটি হলুদ রঙের দাগ তৈরি হয়। একে ‘ফিল্ড স্পট’ বলে। এই দাগটি যত গাঢ় বা বড় হবে, বুঝবেন তরমুজটি খেতে ততটাই মিষ্টি হবে। এটি তরমুজ পুরোপুরি পেকে ওঠার একটি প্রধান লক্ষণ।
২. ওজনের দিকে মনোযোগ দিন: তরমুজটি হাতে নিয়ে দেখুন তা যথেষ্ট ভারী কি না। পেকে যাওয়া রসালো তরমুজের ভেতরে প্রচুর পানি থাকে, তাই ওজনে সেটি ভারী হয়। যদি তুলনামূলক হালকা মনে হয়, তবে সেটি কেনা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
৩. টোকা দিয়ে শব্দের পার্থক্য বুঝুন: তরমুজের গায়ে আঙুল দিয়ে টোকা দিন। যদি ভেতর থেকে গভীর, ফাঁপা বা প্রতিধ্বনিযুক্ত শব্দ আসে, তবে বুঝতে হবে সেটি পাকা ও রসালো। কাঁচা তরমুজে টোকা দিলে বেশ উচ্চ স্বরের নিরেট শব্দ হয়। আর বেশি পেকে যাওয়া বা নষ্ট তরমুজ থেকে ভারী ও থেঁতলানো শব্দ আসে।
৪. বোঁটার অবস্থা দেখুন: তরমুজের বোঁটা যদি শুকনা ও বাদামি রঙের হয়, তবে বুঝতে হবে এটি গাছে থাকতেই ভালোভাবে পেকেছে। বোঁটা যদি সবুজ থাকে, তবে সেটি সম্ভবত কাঁচা অবস্থায় গাছ থেকে তোলা হয়েছে।
৫. সুষম আকৃতি দেখে কিনুন: তরমুজের আকার গোলাকার বা ডিম্বাকার যা-ই হোক না কেন, সেটি যেন সুষম হয়। আঁকাবাঁকা বা অসমান আকৃতির তরমুজ না কেনাই ভালো, কারণ এতে পরাগায়ন ঠিকমতো না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে ফলের স্বাদ পানসে হতে পারে।
৬. ত্বকের উজ্জ্বলতা যাচাই করুন: পেকে যাওয়া তরমুজের খোসা সাধারণত ম্যাট বা অনুজ্জ্বল হয়। যদি দেখেন তরমুজের ত্বক খুব চকচকে দেখাচ্ছে, তবে সেটি সম্ভবত পরিপক্ব নয়। তবে বিক্রেতা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে এটি বোঝা কঠিন হতে পারে, তাই সরাসরি খেত থেকে এলে এই পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।
৭. আঙুল দিয়ে মাপুন: এটি একটি সহজ কৌশল। আপনার তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল দুটিকে পাশাপাশি রেখে তরমুজের গাঢ় সবুজ ডোরা দাগের প্রস্থ মাপুন। যদি আঙুল দুটি ওই গাঢ় সবুজ অংশের ভেতর সহজেই এটে যায়, তবে ধরে নিতে পারেন তরমুজটি একদম পাকা ও মিষ্টি।