
বাসস ►
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে নীলফামারীর ডোমারের পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের মানুষ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে যুগ যুগ ধরে পাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয় সংরক্ষণ করে আসছে। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা আর প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতায় গ্রামটির বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য। যেখানে হাজারো পাখির কোলাহলে মুগ্ধ হন যেকোন প্রকৃতি প্রেমী মানুষ। যখন নির্বিচারে পাখি শিকার কিংবা নিধনের অহরহ ঘটনা ঘটছে, আর সে সময়ই পুরো গ্রামের মানুষের পাখির প্রতি ভালোবাসা কিংবা সদয় হওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই বিরল।
গ্রামবাসীরা জানান, বিভিন্ন মালিকানায় বাড়ির আশপাশে গ্রামে প্রচুর বাঁশঝাড় রয়েছে। পাশাপাশি অবস্থান হওয়ায় গ্রামের এসব বাঁশঝাড় পরিণত হয়েছে পাখির অভয়াশ্রমে। পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মানুষের মহানুভবতায় প্রকৃতির বিপর্যয়ে হারিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এলাকাটি। পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, পাখিদের অবাধ বিচরণে বিস্তৃত এলাকার বাঁশঝাড়গুলো যেন পাখিদের নিজস্ব এক নিরাপদ পৃথিবী। বক, পানকৌড়ি, রাতচোরা, ঘুঘু, শ্যামা, দোয়েল, শালিক, বাবুই, চড়ুইসহ নানা প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে সেখানে। পাখিদের ডানা ঝাপটানো আর কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ।
স্থানীয় আমিনুর রহমান (৫০) বাসস’কে জানান, তাদের পূর্ব পুরুষদের সময় থেকে গ্রামটিতে ছিল পাখির অবাধ বিচরণ। প্রকৃতি ও পাখির প্রতি সহানুভুতিশীল হওয়ার বিষয়টি তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে শিখেছেন বলে উল্লেখ করেন। আমিনুর রহমান বলেন, ‘গ্রামের মানুষ পাখির প্রতি সহানুভুতিশীল হতে শিখেছে পূর্বপুরুষদের কাছে। সেভাবে আমাদের সন্তানদেরকে শেখাচ্ছি আমরা। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি বাড়ির পাশের বাঁশঝাড়ে অসংখ্য পাখি বসবাস করতে। পাখিগুলোকে আমরা আমাদের সম্পদ মনে করি। তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারে, সে জন্য আমরা বাঁশঝাড়গুলো সংরক্ষণ করে আসছি।’
আমরা সেসব ছানা স্বযত্নে বাসায় তুলে দেই মায়ের আদর যত্নে বড় হওয়ার জন্য। পাখিরা যাতে নির্বিঘ্নে বংশ বিস্তার করতে পারে সেদিকে সজাগ রয়েছি আমরা’।নীলফামারী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশি কান্ত মালাকার বাসস’কে বলেন, ‘পাখির প্রতি গ্রামের মানুষের দীর্ঘ সময় ধরে অফুরন্ত ত্যাগ ও ভালোবাসায় পাখির কলোনি গড়ে ওঠেছে। আমরা তাদের এধরণের ত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। পাখির কলোনি রক্ষায় বনবিভাগ পাখি নিধন, পাখি শিকার রোধে মানুষকে সচেতন করার পাশপাশি আইনী সহযোগিতা প্রদান করে আসছে’।