Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৩-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ১০:০৮
ফটো কার্ড

রংপুরে চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

রংপুরে চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

রংপুর প্রতিনিধি ►

ঈদের আমেজে রংপুরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন উৎসবপ্রিয় মানুষ। ঈদের দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও দুপুর গড়াতেই দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় রংপুর চিড়িয়াখানায়। সেখানে পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা মানুষের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। 

আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা আর নির্মল-স্নিগ্ধ পরিবেশ থাকায় আনন্দে মেতেছে শিশু-কিশোররা। বাদ নেই তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্করাও। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা গেছে জেলার দর্শনীয় স্থান, পার্ক ও অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও। ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে রঙিন হয়ে উঠছে ঈদ উৎসব। দু-একটিতে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ থাকলেও বাকি বিনোদন কেন্দ্র ও পার্কে গুনতে হচ্ছে দর্শনীর বিনিময়।

রংপুর চিড়িয়াখানায় প্রবেশের পর এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায় হেঁটে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পশু-পাখি দেখছেন। আর বড়রা তাদের শিশুসন্তানকে বিভিন্ন পশুপাখির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। যেন ঘুরতে এসে দ্বিগুণ হয়েছে ঈদের আনন্দ। আর দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার পর চিড়িয়াখানার এই উন্মুক্ত পরিবেশ নগরবাসীর মনে অন্যরকম প্রশান্তি।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঘ, হরিণ, বানর, বক পাখি আর কুমিরে মজেছে শিশুরা। বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে বানর, জেব্রা, বাঘ ও সিংহের খাঁচার সামনে। বানরের ভেংচি কাটা আর লাফালাফি দেখতে বানরের খাঁচার সামনেও ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। এ ছাড়াও কুমির, ঘড়িয়াল, জলহস্তি, ঘোড়া, হনুমান, গাধা, ভাল্লুক, হরিণ, ময়ূর, উটপাখিসহ চিড়িয়াখানার সবগুলো খাঁচার সামনেই ছিল জটলা। সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তি, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপ প্রভৃতিও রয়েছে এখানে। পাখির মধ্যে রয়েছে ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া, কবুতর, বক ইত্যাদি। দর্শনার্থীরা বলছেন, দীর্ঘ ছুটিতে শিশুদের প্রকৃতি ও কোলাহল পরিবেশে বিনোদনের পাশাপাশি নিজেদের মানসিক সজীবতাও মিলছে ঘুরতে এসে। শঙ্কা নেই নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রংপুর চিড়িয়াখানা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি ২২ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে। রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হযরত আলী জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পানি পান ও নামাজের ব্যবস্থা এবং বিশ্রামের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত আসন। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক রয়েছে। তা ছাড়া পুরো চিড়িয়াখানা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।

এদিকে রংপুর চিড়িয়াখানা ছাড়াও তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, রূপকথা থিম পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, সিটি চিকলি বিনোদন পার্ক, আনান সিটি পার্ক, গঞ্জিপুরে ভিন্নজগত, পীরগঞ্জে আনন্দনগর ও কাউনিয়ায় তিস্তা পার্কসহ আশপাশের জনপ্রিয় কেন্দ্রগুলোতেও ঘুরতে বেরিয়েছেন দর্শনার্থীরা। এসব বিনোদন কেন্দ্রে প্রবেশ পথে গুনতে হচ্ছে শুভেচ্ছা মূল্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad