
অনলাইন ডেস্ক ►
রংপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে মিনারা বেগম (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নগরীর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান মিনারা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হন পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মিনারা বেগম। ভর্তির পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, নগরীর একটি বেসরকারি প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্বলতা, পেটে ব্যথা, বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। জ্বর কমে গেলেই সুস্থ হয়ে গেছেন—এমনটি মনে না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।
দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর হলে নিজের মতো করে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।