Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছেই

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছেই

অনলাইন ডেস্ক  ►
পল্লবীর ছোট্ট বাসাজুড়ে শুধুই কান্না, দীর্ঘশ্বাস আর বড্ড ভারী নীরবতা। বাসার সামনে টানানো ব্যানারে লেখা ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আগামী রবিবারের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবারও বিক্ষোভে উত্তাল ছিল রাজধানীসহ সারা দেশ। গতকাল সরেজমিনে পল্লবী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা ভবনের নিচে ভিড় করছে। সবার কণ্ঠে একটাই দাবি, রামিসা হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার। পল্লবীর ৭ নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাড়ির নিচে টানানো ব্যানারেও লেখা রয়েছে একই কথা।

এর মধ্যে গতকাল জুমার নামাজ শেষে মেয়ের কবর জিয়ারত করতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে যান রামিসার মা-বাবা ও স্বজনরা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষের কান্না আর সান্ত্বনার বাণী উচ্চারণে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।  আদরের সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের স্বজনরা জানায়, গত বুধবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে রামিসাকে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘ওই পাষণ্ড আমার এত বড় সর্বনাশ করল। ওর বিচার চাই। মায়ের অসুস্থতা দেখলে রামিসা বলত, বড় হয়ে ডাক্তার হবে, আমার চিকিৎসা করবে। কিন্তু আমার মেয়ে আর ডাক্তার হতে পারল না। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে একটি জুতা পরেছিল, আরেকটি পরারও সুযোগ পায়নি। দরজার সামনে পড়ে থাকা জুতা দেখে সন্দেহ হয়। পরে সবাই এসে দরজা ভেঙেছে। পেছনের দিক দিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে দেখেছে আশপাশের মানুষ।মেয়ের স্মৃতিচারণা করে বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘টিফিন খেতে মেয়ে প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকা চাইত। ছোট ছোট আবদার ছিল।

রামিসার বড় বোন রাইসা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘রাস্তার ওপারে চাচার বাসায় যাওয়ার সময় ছোট বোনকে ঘরে থাকতে বলে বের হয়েছিলেন। কিন্তু অজান্তেই রামিসা তার পিছু নেয়। আমি বুঝতেই পারিনি ও পেছনে এসেছে। তখনই লোকটা দরজার সামনে থেকে ওকে টেনে নিয়ে যায়। ও চিৎকার করছিল। মা সেই শব্দ শুনেছিলেন।

এদিকে এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে পল্লবী-মিরপুরসহ পুরো দেশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। সহপাঠী, শিক্ষক, এলাকাবাসী সবাই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, আমরা আশ্বস্ত করেছি, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দ্রুততার সঙ্গে আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আসামি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ​এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা। চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্টটা করতে হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ টেস্টের জন্য সিআইডি অলরেডি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। আদালতের অনুমতির চেষ্টা চলছে। ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে যে, ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়। সেটা শেষ হবে রবিবার দুপুরের মধ্যে। এর মধ্যেই ইনশাআল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব, তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচারকাজ নিষ্পন্ন হয়, সে চেষ্টা করব। যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়, সে জন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে।

পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড ও স্বভাবচরিত্র ভালো ছিল না বলেও মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক  প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।  তিনি বলেন, শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। ডিবিপ্রধান বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শিশু রামিসা হত্যাসহ দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম এ ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, আট বছর বয়সী একটি শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।

রামিসা হত্যার বিচারের দাবি, মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ : রামিসা হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীর জনসমক্ষে ফাঁসি চাই। ব্যানারে লেখা রাজধানীর পল্লবীর ৭ নম্বর সড়কের ৩৭ নম্বর বাড়ির নিচে ঝুলছে একটি সাদা ব্যানার। সেখানে ফুটফুটে শিশু রামিসার হাসিমাখা ছবি। গতকাল সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড। এ সময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করে সড়কে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধরা। মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য দিয়ে বলেন, স্থানীয় জনতা মিরপুর ১০ নম্বর সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে আসামিদের বিচারের দাবিতে দুপুর ১২টার দিক থেকে তারা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে আছে। আমরা একটা সাইড দিয়ে এক লেনে গাড়িগুলো পাস করে দিচ্ছি। যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক আছে।

আসামিপক্ষকে আইনি সেবা দেবেন না ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা : রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। গতকাল সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান। তিনি বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটি জুম মিটিং শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে সমিতির কোনো সদস্য অংশ নেবে না।

গুলশান সোসাইটির মানববন্ধন : সাত বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গুলশান সোসাইটির সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার সকালে তারা গুলশান-২ গোলচত্বরে এ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। গুলশান সোসাইটির মহাসচিব মজিবুর রহমান মৃধার নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে সোসাইটির সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। গুলশান সোসাইটির মহাসচিব মজিবুর রহমান মৃধা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আমরা শোকে মুহ্যমান। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় সরকার ও বিচার বিভাগের কাছে আমরা গুলশান সোসাইটি’র পক্ষ থেকে দ্রুত সুষ্ঠু বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ছাত্রী সংস্থার মানববন্ধন : শিশু রামিসার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং নারী-শিশুর প্রতি চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা এই কর্মসূচি পালন করে।

রামিসার কবর জিয়ারত করলেন বাবা : আলোচিত শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করতে তার বাবা মুন্সীগঞ্জে এলে আবেগঘন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গতকাল দুপুরে জুমার নামাজ শেষে রামিসার কবর জিয়ারত করতে আসেন তার শোকাহত বাবা হান্নান মোল্লাহ ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রামিসার বাবাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেলেন সংসদ সদস্য। উপস্থিত এলাকাবাসীও কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা জানায়, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। রামিসার কবর জিয়ারতের সময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রামিসার বাবা হান্নান মোল্লাহ বলেন, আমার বাসায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওনারা আমাকে বলেছেন, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে তাঁরা চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করবেন। হয়তো তিন-চার দিন পর হতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব একটা দৃষ্টান্তমূলক বিচারের রায় এবং সে রায় বাস্তবায়ন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ওনি আমাকে বলেছেন, আমি একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে এখানে এসেছি। ওনার যে ভালোবাসা, ওনার যে চোখের কান্না, আকুতি এবং আমাকে দেওয়া কথা, সে কথার উপরেই আমি শতভাগ বিশ্বাসী। ইনশাআল্লাহ আমার মেয়ের বিচার দ্রুত পাব।

এদিকে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার বিচারের দাবিতে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ। গতকাল সকাল ১০টায় টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মডেল মসজিদের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সিরাজদিখান উপজেলায় জামায়াতে ইসলামী, লৌহজংয়ে ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে রামিসা হত্যাকারীর দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। এ ছাড়া রামিসার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সাভার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, যশোর, জয়পুরহাটের কালাই এবং খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad