Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যু্ক্ত হতে লাগবে পাঁচ সপ্তাহ

রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যু্ক্ত হতে লাগবে পাঁচ সপ্তাহ

অনলাইন ডেস্ক ►
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া (পাওয়ার স্টার্টআপ) শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে আরো প্রায় পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে আরো সাত থেকে আট মাস লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) অনুমোদনের পর গত শুক্রবার সকাল থেকে প্রথম ইউনিটের স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে কেন্দ্রটি। চুল্লির ভেতরে চাপ ও তাপমাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চুল্লির ক্ষমতা বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম ইউনিটের এই পর্যায়ের কাজকে বলা হচ্ছে ‘সি-স্টেজ’।

এই ধাপে চুল্লির ক্ষমতা শূন্য থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পর্যায়ে পৌঁছলে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে কেন্দ্রটি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহেদুল হাছান জানান, সি-স্টেজে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।

চুল্লির ক্ষমতা শূন্য থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছলে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা চলতে পারে। এ সময় চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষমতায় কেন্দ্রটি নিরাপদ ও স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে জেনারেটরকে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা। কারিগরি ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘সিংক্রোনাইজেশন’ বলা হয়। তবে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেই বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে না; পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিক পরিচালনায় যেতে হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় চুল্লির ভেতরে ইউরেনিয়াম জ্বালানির পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপে পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়। বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘোরে এবং টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। ফলে চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া চালু ও পরীক্ষিত হওয়ার পরই গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব।

এদিকে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রোসাটম। এই ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রি-অ্যাক্টরে প্রাথমিক পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে বিভিন্ন পর্যায়ের পাওয়ার এসেনশন পরীক্ষা এবং বায়েরা থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad