Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

রেলে আসছে ২০০ কোচ, চালু হচ্ছে নতুন ৩ রুট

রেলে আসছে ২০০ কোচ, চালু হচ্ছে নতুন ৩ রুট

অনলাইন ডেস্ক ►
দেশে গত পাঁচ বছরে নতুন নতুন রেলপথ তৈরি হলেও কোচসংকটে এত দিন এসব রুটে ট্রেন চালু করতে পারেনি রেলওয়ে। আগামী আগস্টে ভারত থেকে ২০০ ব্রডগেজ কোচ আসার পর সংকট কাটবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী আগস্টে ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ রেলওয়ে ক্যারেজ (কোচ) আসার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এসব কোচ আসার পর নতুন রুটগুলোতে ট্রেন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে যমুনা সেতু-পাবনা, ২০২২ সালে ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর, ঢাকা-পদ্মা সেতু-ফরিদপুর আর ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা রেলপথ চালু হলেও এসব রুটে ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও কোচের স্বল্পতায় পর্যাপ্ত ট্রেন দিতে পারেনি তারা। এর মধ্যে যমুনা সেতু-পাবনা ও খুলনা-মোংলা রুটে অন্ত নগর কোনো ট্রেনই দিতে পারেনি রেলওয়ে।

তবে রেলে ভারতীয় নতুন কোচ এলে পর্যায়ক্রমে এসব রুটে ট্রেন যুক্ত হবে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন কোচ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রথমে ঢাকা-পাবনা রুটে আন্ত নগর ট্রেন চালু হবে। এরপর ঢাকা-খুলনা রুটে আন্ত নগর ট্রেন চালানো হবে। এটাকে মোংলা পর্যন্ত নেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

আর পুরনো কোচগুলো দিয়েই গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে একটি কমিউটার ট্রেন চালানো হবে। অন্য রুটে ট্রেন কবে দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরনো কিছু ট্রেনের কোচ পরিবর্তন করতে হবে। এর মধ্যে রাজশাহীতে পাঁচটি ট্রেন চলে। সেগুলোতে কোচ পরিবর্তন করে নতুন কোচ দেওয়া হবে। এসব অবমুক্ত কোচ দিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া লোকাল, কমিউটার আর মেইল ট্রেনগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রেল সূত্র জানায়, পদ্মা সেতু দিয়ে সরাসরি নতুন রেলপথ চালু হওয়ার পরও ঢাকা-খুলনা রুটে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ছাড়া নতুন কোনো ট্রেন চালু হয়নি। এ ছাড়া সুন্দরবন এক্সপ্রেস আর বেনাপোল এক্সপ্রেস রুট পরিবর্তন করে যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা সেতু দিয়ে চলছে। সরাসরি যশোর রুট দিয়ে চলার দাবি থাকলেও সেই পথে না চলে ঘুরপথে ফরিদপুর-কুষ্টিয়া হয়ে চলছে।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন, ‘যশোর-খুলনা-ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি ট্রেন চলাচল এই অঞ্চলের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি রেলওয়ের জন্যও লাভজনক। যশোর থেকে কোনো প্রভাতি ট্রেন নেই; এটা প্রয়োজন। এদিকে দর্শনা-ঝিনাইদহ-কোটচাঁদপুরের মানুষও ঢাকার সঙ্গে যশোর হয়ে সরাসরি যোগাযোগ চাচ্ছে। যদি বেনাপোল-ঢাকা, খুলনা-ঢাকা, দর্শনা-ঢাকা রুটে সরাসরি চারটি ট্রেন দ্রুত চালু করা না হয়, তাহলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘দর্শনাকে আমাদের বাণিজ্যিক হাব করার চেষ্টা আছে, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখানে অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় রয়েছে। তবে এখানে ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি মেরামতের জন্য ওয়াশপিট নেই। এটা করার আগ পর্যন্ত এই রুটে নতুন ট্রেন চালু করা সম্ভব নয়। তবে অন্য রুটগুলোতে পর্যায়ক্রমে চাহিদা সাপেক্ষে ট্রেন চালু করা হবে।’ সম্প্রতি সংসদে ট্রেনের গতি বাড়াতে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছিলেন, যাত্রীদের আরামদায়ক ট্রেনভ্রমণ নিশ্চিত এবং মালপত্র পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অদূরভবিষ্যতে ২৬০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করার জন্য প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলছে।

খবর- কালের কন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad