Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম প্রাণ ফিরছে ২০ বছর পর

শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম প্রাণ ফিরছে ২০ বছর পর

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া ►

দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরছে বগুড়ার ঐতিহাসিক শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। আন্তর্জাতিক মানের এ ভেন্যুকে পুনরায় ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনতে সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

আইসিসির মানদণ্ড অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বগুড়ায় আধুনিক ‘প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ গড়ে তোলারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৩ এপ্রিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগসুবিধাসম্পন্ন ভেন্যুতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। ফ্লাডলাইট, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি ও ড্রেনেজব্যবস্থার সংস্কারকাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

একসময় উত্তরাঞ্চল ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে যাত্রা হয় এ ভেন্যুর। পরবর্তী সময়ে আইসিসির স্বীকৃতি পাওয়ার পর এখানে একটি টেস্ট ও পাঁচটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ফ্লাডলাইট অচল হয়ে পড়ে, মাঠ ও অবকাঠামোর বিভিন্ন অংশে দেখা দেয় জরাজীর্ণতা। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হওয়ায় একপর্যায়ে ভেন্যুটি আইসিসির আন্তর্জাতিক তালিকা থেকেও ছিটকে যায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না থাকলেও বৈষম্য আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া নান্দনিক ও নয়নাভিরাম শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর স্টেডিয়ামটি অবহেলায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের বল গড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন উত্তরের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্টেডিয়াম অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে। এখন সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গনে আশার সঞ্চার হয়েছে।’ বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘স্টেডিয়ামের অবকাঠামো উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু হিসেবেই নয়; উত্তরাঞ্চলের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিনের নীরবতার পর আবার মাঠে ক্রিকেটারদের পদচারণ, গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি, সংস্কার উদ্যোগ-সব মিলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছে বগুড়ার ক্রীড়াঙ্গন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad