Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

সাঘাটা-জুমারবাড়ী সংকুচিত সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ

সাঘাটা-জুমারবাড়ী সংকুচিত সড়কে পথচারীদের দুর্ভোগ

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা►
উন্নয়নের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হলেও সেই উন্নয়ন যদি মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়, তবে তার জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। গাইবান্ধার সাঘাটায় যমুনার ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কার প্রকল্পকে ঘিরে এখন এমনই প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের নামে নেওয়া প্রকল্পটি বর্তমানে হাজারো মানুষের জন্য দুর্ভোগ, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাঘাটা উপজেলার বাঁশহাটা থেকে জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত পানি উন্নয়ন বোর্ডের যমুনার ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি শুধু বন্যানিয়ন্ত্রণের জন্যই নয়।

এবাঁধের ওপর ডাকবাংলা পাঁচমাথা মোড় থেকে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশপথ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার নির্মিত এলজিইডির সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখিয়ালীর কারণে সেই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিই এখন এলাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের জন্য এক ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ সংস্কারের সময় সড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘ মাটির আইল নির্মাণ করে। এতে সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ সংকুচিত হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সামান্য বর্ষণেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। পানির ক্ষয়প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, ভেঙে পড়েছে সড়কের ঢালু অংশ।

কোথাও কোথাও যান চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, মাঝে-মধ্যে মাটি ও রাবিশ ফেলে দায়সারা সংস্কার করা হলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের দাবি, বাঁধের অধিকাংশ অংশে এমন আইল নির্মাণ করা হয়নি। অথচ তুলনামূলক উঁচু এই ৫ কিলোমিটার অংশে মাটির আইল তৈরি করে সড়কটিকে আরও দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়েছে। এলজিইডির অধীন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার লাখো মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী বাস, ট্রাক, পণ্যবাহী যানবাহন ও শত শত ছোট-বড় যান এই পথ ব্যবহার করে।

কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং চিকিৎসাসেবাসহ দৈনন্দিন নানা কর্মকাণ্ড এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধের অন্যান্য অংশের তুলনায় এই অংশটি এমনিতেই উঁচু। এরপরও রাস্তার একপাশে অতিরিক্ত মাটির স্তূপ রেখে আইল নির্মাণ করায় দুই পাশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জায়গা প্রায় নেই বললেই চলে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের বাধ্য হয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশ ঘেঁষে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ততম সড়ক দখল করে কাচা-পাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পানিউন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পজেশন বিক্রিও করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সংস্কারের নামে মানুষের চলাচলের পথ সংকুচিত করা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা ভেঙে যায়, গর্ত তৈরি হয়। এই সড়ক এখন শুধু গলার কাঁটা নয়, সরাসরি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।” সড়কের পাশে আইল নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নয়ন রায় বলেন, “সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর হওয়ায় উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরণের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।” তার পরেও আগামী অর্থবছরে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad