Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সারথি থিয়েটারের খৈলানপালা অনুষ্ঠিত হলো গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামে

সারথি থিয়েটারের খৈলানপালা অনুষ্ঠিত হলো গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামে

মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু ►
সারথি থিয়েটারের প্রযোজনায় এবং জুলফিকার চঞ্চলের রচনা ও নির্দেশনায় ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত গাইবান্ধা সদরের মালিবাড়ি ও দারিয়াপুরে অনুষ্ঠিত হলো খৈলান পালার আসর। ‘খৈলান পালা’ হলো বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের, বিশেষ করে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য বা লোকসংস্কৃতি। এটি মূলত এই অঞ্চলের বিখ্যাত লোকগান ও নাট্য আঙ্গিক ‘কুশান গান’-এর একটি বিশেষ রূপ বা পালা। গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি সংস্কৃতি এবং পৌরাণিক উপাখ্যানকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ পরিবেশনাটি গড়ে উঠেছে।

এটি মূলত একটি নাট্যধর্মী গীতি-আলেখ্য। এটি গ্রামীণ লোকশিল্পীদের দ্বারা মঞ্চে বা খোলা আসরে পরিবেশিত হয়। এই পালায় রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনি, বিশেষ করে রাজা দশরথ, রাম-লক্ষ্মণ, সীতা হরণ এবং লব-কুশের বীরত্ব ও জীবনের নানা আখ্যান গানের সুরে ও অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। আসরে একজন মূল গায়ক বা ‘মূল গিদাল’ থাকেন, যিনি পুরো পালাটি পরিচালনা করেন। তাকে সহযোগিতা করার জন্য থাকেন দোহার, বাদ্যযন্ত্রী এবং নৃত্যশিল্পীরা। গান, নাচ এবং মুখে মুখে বলা সংলাপের সংমিশ্রণে এই পালা জমে ওঠে।

জানা গেছে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট অঞ্চলে বহু বছর আগে থেকেই কৃষিজীবী মানুষের মাঝে ‘কুশান গান’-এর ব্যাপক প্রচলন ছিল। কৃষকদের জীবন এবং তাদের বিনোদনের তাগিদ থেকেই এই কুশান সংস্কৃতির উৎপত্তি। মনে করা হয়, রামের দুই পুত্র ‘লব’ ও ‘কুশ’-এর নাম থেকে কিংবা পৌরাণিক আখ্যানকে ‘কুশিলব’ বা চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার রীতি থেকেই ‘কুশান’ নামের জন্ম। এই কুশান গানের ভেতরের একটি ধারা বা বিশেষ খণ্ডই হচ্ছে ‘খৈলান পালা’।

উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন লোক-ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখাতে তারই ধারাবাহিকতায় গাইবান্ধা জেলায় নাট্য ব্যক্তিত্ব জুলফিকার চঞ্চল দিনে দিনে গাইবান্ধাতেও বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছেন কুশান পালা ও খৈলান পালা।তিনি বেশ কয়েক বছর থেকে গাইবান্ধার বিভিন্ন গ্রামের উঠোনে এই খৈলান পালার আয়োজন করে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছেন। সরেজমিনে শনিবার দারিয়াপুরের বটতলায় গিয়ে দেখা যায় অনেক মানুষ গোল হয়ে উপভোগ করছেন এই খৈলান পালা।

এই পালা দেখতে ভিড় জমিয়েছেন গাইবান্ধা শহরের অনেক কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। সেদিনের এই খৈলান পালা দেখতে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে উপভোগ করেছেন যা সত্যিই বাঙালির সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে যেন নতুনরূপে তুলে ধরা হলো। অভিনয়ে, গানে, নৃত্যে ও বাদ্যযন্ত্রে ছিলেন রিজু আহমেদ, চন্ডিচরণ, রফিকুল, বিশাল, আলামিনম আলম, ভুতু, লিমন, রাশেদ, নদী, রশিদা, সেঁজুতি, মিষ্টি, সাদিয়া, আঁখি, সুজা, আসমানী ও চঞ্চল। রিজু আহমেদ ছিলেন মুল গায়ক বা মুল গিদাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad