Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সিলেটে পেট থেকে জ্যান্ত বাইম মাছ বের করলেন চিকিৎসকেরা

সিলেটে পেট থেকে জ্যান্ত বাইম মাছ বের করলেন চিকিৎসকেরা

অনলাইন ডেস্ক ►
মাছ ধরার সময় দুর্ঘটনাবশত মলদ্বার দিয়ে শরীরের ভেতরে জ্যান্ত বাইম মাছ ঢুকে যাওয়ার মতো এক অত্যন্ত বিরল ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছিল বাংলাদেশে। পেটের মারাত্মক সংক্রমণ ও অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৫৫ বছর বয়সী এক জেলের পেটের ভেতর থেকে প্রায় ৬৫ সেন্টিমিটার (২৫ ইঞ্চি) দীর্ঘ একটি জ্যান্ত বাইম মাছ বের করেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সার্জারি কেস রিপোর্টস’-এর মে ২০২৪ সংখ্যায় এই বিরল ঘটনার বিস্তারিত কেস স্টাডি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাপত্রটির মূল লেখক ডা. মোবিন ইবনে মকবুল এবং তাঁর সহ-লেখক সৌমিক রায়, অমর্ত্য নারায়ণ রায়, অমৃতা শ্রেষ্ঠা ও মোস্তফা নাওয়াই। তাঁদের মতে, জ্যান্ত প্রাণীর কারণে মানবদেহের অন্ত্র ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে অত্যন্ত অপ্রতুল। এর আগে ২০০৪ সালে হংকংয়ে প্রায় একই ধরনের একটি ঘটনা নথিভুক্ত করেছিলেন গবেষক লো ও তাঁর দল।

যেভাবে ঘটে এই দুর্ঘটনা
গবেষণাপত্রে জানানো হয়, ৫৫ বছর বয়সী ওই জেলে নদীতে মাছ ধরার সময় হঠাৎ একটি বাইম মাছ তাঁর লুঙ্গির ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে মলদ্বার (অ্যানাল ক্যানেল) দিয়ে সোজা অন্ত্রে প্রবেশ করে। উল্লেখ্য, ওই ব্যক্তির আগে থেকেই অ্যানাল ফিস্টুলা এবং পাইলসের (হেমোরয়েড) জটিলতা ছিল। ঘটনার পর লজ্জার কারণে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানাননি। তিনি ভেবেছিলেন মাছটি হয়তো স্বাভাবিক মলত্যাগের মাধ্যমেই বের হয়ে যাবে। কিন্তু তা না হয়ে পেটের ভেতর মাছটির বিচরণের কারণে মারাত্মক শারীরিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর, পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে ওই ব্যক্তি ট্রমা ও ইমার্জেন্সি সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। হাসপাতালে আনার সময় তাঁর শরীরে রক্তচাপ ছিল ১০০/৬০ মিমি পারদ, পালস রেট ছিল মিনিটে ১১০ এবং শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৯৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট (স্বাভাবিক)। পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, অস্ত্রোপচারে বেরোল ২৫ ইঞ্চির জীবন্ত কুঁচিয়াপেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে, অস্ত্রোপচারে বেরোল ২৫ ইঞ্চির জীবন্ত কুঁচিয়া জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষার সময় রোগীর পেট মারাত্মক শক্ত (অ্যাবডোমিনাল রিজিডিটি) ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়েছিল। রক্তের পরীক্ষায় নিউট্রোফিলের মাত্রা ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা শরীরে তীব্র সংক্রমণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

চিকিৎসকেরা দ্রুত পেটের এক্স-রে করান। এক্স-রে চিত্রে ডায়াফ্রামের ডান পাশের নিচে অর্ধচন্দ্রাকার গ্যাসের ছায়া এবং পেটের ভেতরে ঘোলাটে ভাব দেখা যায়, যা অন্ত্র ফুটা হওয়া (ইন্টেস্টাইনাল পারফোরেশন) এবং পেটের ভেতরের আস্তরণে তীব্র সংক্রমণের (পেরিটোনাইটিস) নিশ্চিত লক্ষণ। একই সঙ্গে এক্স-রে ছবিতে একটি রৈখিক অস্পষ্ট ছায়াও ধরা পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ডা. মোবিন ইবনে মকবুল ও তাঁর চিকিৎসক দল কোনো বিলম্ব না করে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রোপচার কক্ষে পেটের ভেতরে প্রবেশ করতেই চিকিৎসকেরা দেখতে পান, সিগময়েড কোলনের (বৃহদন্ত্রের শেষ অংশ) সামনের দেয়ালে প্রায় ৩ বাই ১ সেন্টিমিটার আকারের একটি বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে। মাছটি সিগময়েড কোলন ফুটা করে পেটের খালি অংশে (পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটি) চলে গিয়েছিল এবং সেখানে মল ছড়িয়ে পড়েছিল।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল, পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটিতে অক্সিজেনের অভাব ও প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও ৬৫ সেন্টিমিটার দীর্ঘ বাইম মাছটি জীবিত ছিল এবং অস্ত্রোপচারের সময় নড়াচড়া করছিল! চিকিৎসকেরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জ্যান্ত মাছটিকে পেটের ভেতর থেকে বের করে আনেন, স্যালাইন দিয়ে পেট পরিষ্কার করেন এবং সিগময়েড কোলোস্টমি সম্পন্ন করেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ ও শিক্ষা
গবেষক দল তাঁদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, দুর্ঘটনাবশত বা ভুলবশত মানবদেহে বাইরের কোনো বস্তু প্রবেশ করা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি জীবন্ত প্রাণী অন্ত্রের শক্তিশালী দেয়াল ভেদ করে ভেতরে চলে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরল।

হংকংয়ের ২০০৪ সালের ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উদ্দেশ্যে নিজ উদ্যোগে মলদ্বারে বাইম মাছ প্রবেশ করিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশের এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ পেশাগত দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে। অস্ত্রোপচারের পর ওই জেলে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই চার দিন 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad