
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
চোখজুড়ানো সবুজে ছেয়ে গেছে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ আমন ধানের মাঠ। শরতের নির্মল আকাশের নিচে দিগন্তজোড়া সবুজ ধানখেত যেন বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বছর উপজেলায় বেড়েছে সুগন্ধি জাতের আমন ধানের আবাদ। মাঠজুড়ে এখন দুলছে সবুজ ধানের চারা। এতে ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে এবার ১৭ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। আমন চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উপজেলার ৪ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। ধানের ভালো দাম এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় সার-বীজ পাওয়ায় এবার কৃষকদের মধ্যে আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় সুগন্ধি জাতের আমন ধানের আবাদও বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এবার কৃষকদের আবাদ করা ধানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাত হলো-গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫, সুগন্ধি জাতের ব্রি-৩৪ (জিরা কাটারি), সম্পা কাটারি ও আলিম জিরা জাতের ধান। এসব জাতের ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।
উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমন ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা করছেন তিনি। সময়মতো ধানের পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যাবে বলে তার প্রত্যাশা। কাটলা গ্রামের নুরে আলম জানান, মাঠজুড়ে সবুজ ধানের সমারোহ দেখে তাদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমনে ভালো ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, কৃষি বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকেরা জমিতে সঠিকভাবে সার প্রয়োগ এবং নিবিড় পরিচর্যা করছেন। অনুকূল আবহাওয়াও ধানের জন্য সহায়ক হয়েছে। ফলে বর্তমানে উপজেলার বিস্তীর্ণ আমনখেত সবুজে ভরে উঠেছে।