Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে নতুন করে ৪ জন আক্রান্ত, মোট আক্রান্ত ৩৪

সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সে নতুন করে ৪ জন আক্রান্ত, মোট আক্রান্ত ৩৪

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই গ্রামে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটি করাই এবং বিয়ে বাড়িতে গরুর মাংস দিয়ে দাওয়াত খাওয়ায় নতুন করে ৪ জনসহ মোট ৩৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সাথে শিয়ালের কামড়ে ৯ জন মানুষ ও ২টি গরু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হঠাৎ এই তীব্র সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় ওই দুই গ্রামসহ গোটা উপজেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যারা গরুর মাংস কিনেছেন তাদের পরিবারের মাঝে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। সেই সাথে মানুষ ও পশুকে টিকা প্রদান চলমান রয়েছে।

ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষনা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) এবং এফিডেমিওলজি সেলের প্রতিনিধি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাবগবেষণার জন্য শিয়ালের মাথা ও অসুস্থ গরুর মাংস পাঠানো হয়েছে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ল্যাবে পাঠানো নমুনায় অ্যানথ্রাক্স ও জলাতঙ্ক পজেটিভ। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগষ্ট কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের হাবিবুর রহমান ও ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের বাছহাটী গ্রামে মঞ্জুরুল ইসলামের একটি করে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা তাৎক্ষনিক ভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় অসুস্থ গরু জবাই করে। দুই গ্রামের অন্তত ২০০ জন মানুষের কাজে ওই মাংস বিক্রি কর হয়।

এর একদিন বা দুই দিন পর দুই গ্রামের মানুষের শরীরে ফোসকা পড়ে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করলে রোগটি সনাক্ত হয়। এ ঘটনায় দুই গ্রামের ৩৪ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তরা হলেন বাছহাটী গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীন, মো. গোলেজার রহমান, মো. নুর আকাইদ, মোছা. রুমি বেগম, মোছা, রশিদা বেগম, মো. সুলতান মিয়া, মোছা, রাহেলা বেগম, মোছা. শরিতন নেছা, মোছা. দেলেনা বেগম, মো. জয়নাল আবেদীন, মোছা. জেলী বেগম, মোছা. ফুলমতি বেগম, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. আজমিন মিয়া, মোছা. ফাহিমা বেগম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. শফিয়াল মিয়া, মো. আব্দুর রশিদ, মো. চান্দ মিয়া, মো. আব্দুল জলিল মিয়া, মোছা. লাবনী আকতার, মোছা. রোশনা বেগম, মোঃ আব্দুল মজিদ মিয়া, মোছা. মিসকিনা বেগম, মোছা. শাহিনুর গেম, মো. আনছার আলী, মো. জবেদ আলী এবং দুলাল গ্রামের মো. জাহেদুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. আজগার আলী, মো. আবুল হোসেন, মো. নাজমুল ইসলাম।

এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উপজেলার বেলকা উইনয়নের জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে শিশু-নারীসহ ৯ জন মানুষ ও ২টি গরু আক্রান্ত হয়েছেন। তারা তাৎক্ষনিক ভাবে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

আক্রান্তরা হলেন- জিগাবাড়ি ও তালুক বেলকা গ্রামেরমোছা. রারেয়া বেগম, মো. রাকিবুল হাসান, মো. এনামুল হক, মোছা. আয়শা আকতার, মো. হাসান মিয়া, মোছা. নিলি বেগম, মো. সাদেক হোসেন, মোছা. আফরুজা বেগম ও মো. শাওন মিয়া।

সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষনা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) সহকারি অধ্যাপক ডাক্তার সোহেল রহমান, ডাক্তার কাজী তাহমিনা করিম, এফইটিসি ফেলো ডাক্তার মোস্থফা মাহমুদ, ডাক্তার মেরি হাপাং, মেডিকেল এনথ্রোপলজিস্ট ড. দৌলত খানসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেই সাথে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এফিডেমিওলজি সেলের ডেপুটি চীফ এপিডেমিওলজিষ্ট ডাক্তার মো. রফিকুল ইসলাম, ইউএলও ডাক্তার সাজেদুল হায়াত, ডাক্তার মোছা. কামরুন্নাহার আকতারসহ একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট গরুর সংখ্যা ২ লাখ ৫৪ হাজার। নিয়ম অনুয়ায়ী যে এলাকায় অ্যানথ্রাক্স দেখা দেয় তার আশপাশ তিন কিলোমিটারের মধ্যে যতগুলো গরু রয়েছে, তাদেরকে টিকা দিতে হবে। সে মোতাবেক বর্তমানে টিকার দরকার ৪৫ হাজার। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ঠিকা পাওয়া গেছে ৩০ হাজার। কিন্তু জনবল সংকটের কারেনে টিকা দেয়া সম্ভাব হচ্ছে না। খামারি ও গরু মালিকদের দাবি, টিকা ও জনবল সংকটের কারনে যথা সময়ে টিকা প্রদান না করার কারনে অ্যানথ্রাক্সের এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

যেহেতু ২০২৫ সালে অ্যানথ্রাক্সে প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছিল। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাম টিকা প্রদান করার দরকার ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আক্রান্তদের জবানবন্ধি শুনে বিষয়টি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত বলে মনে হয়েছে। আক্রান্তদের সকলকে ডেকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। সেই সাথে ওই এলাকার সমস্ত গরু-ছাগলকে অ্যানথ্রাক্স টিকা দেন। সকল গরু মালিকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

তিনি বলেন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর রক্ত যাদের শরীরে লাগবে তাদেরেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে মাংস যেহেতু অধিক তাপমাত্রা দিয়ে রান্না করা হয়, সেক্ষেত্রে যারা মাংস খেয়েছেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত পশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষাগারে প্রাথমিক ভাবে গরুর মাংসে অ্যানথ্রাক্স এবং শিয়ালের মাথায় জলাতঙ্ক জীবাণু পাওয়া গেছে। সে মোতাবেক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে। সকলকে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল না হলে এই সংক্রামক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. কামরুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে মাত্রই একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত অ্যানথ্রাক্স উপসর্গ নিয়ে দুই গ্রামের ৩৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া শিয়ালের কামড়ের একজন ভর্তি রয়েছে বাকী ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এতে ভয়ের কোন কারন নেই। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, আক্রান্তদের গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেয়ার জন্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের আর্থিক সভায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে গত বছর অক্টোম্বর মাসে অ্যানথ্রাক্সে ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছিল। সেই সময়ে ১০টি গরু ও এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারায়। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad