Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

স্পিনার’ মুমিনুলের প্রস্তুতি

স্পিনার’ মুমিনুলের প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক ►
সিরিজের ক্যাম্প শুরুর আগে টেস্ট ক্রিকেটারদের একটা লম্বা সময় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন কোচ সোহেল ইসলাম। ইনডোরের পাশের নেটে মুমিনুল হকের বোলিং নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করতে দেখা গেছে তাঁকে। টেস্টের অভিজ্ঞ ব্যাটারকে বোলার হিসেবে প্রস্তুত করার কারণও আছে। মুমিনুলের বোলিংটা কাজে লাগাতে চান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ব্যাটিং-বোলিং দুই ভূমিকাতেই একাগ্র ছিলেন নেটে। কোচ সোহেল ইসলাম জানান, পাকিস্তানের বিপক্ষে মুমিনুলের বোলিংটা কাজে লাগাতে পারেন অধিনায়ক। সেভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে তাঁকে। মুমিনুল স্পিনে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের সহযোগী হতে চান।  

দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন পেসার ও দুই স্পিনার খেলালে বিকল্প স্পিনার মুমিনুলকে বোলিংটা কাজে দেবে বলে মনে করেন সোহেল ইসলাম। তাঁর মতে, ‘মুমিনুলকে বোলিং অনুশীলনে রাখার কারণ হলো স্বাভাবিক ছন্দে রাখা। প্রয়োজন হলে যেন তাঁর বোলিংটা কাজে লাগাতে পারে। অধিনায়ক শান্ত বলেছিল মুমিনুলের বোলিংটা যেন নিয়মিত দেখি। এ কারণে প্রতিদিন নেটে বোলিং করেছে।’ প্র্যাকটিস ছাড়া লাল বলে হঠাৎ বোলিং করতে গেলে লাইন-লেন্থ ঠিক থাকে না। টেস্টের ফিল্ডিংটা ভিন্ন হওয়ায় এলোমেলো বোলিং হলে রান বের করে নেন ব্যাটাররা। এক-দেড় মাসের অনুশীলনে মুমিনুল এখন ভালো শেপে আছেন বলে জানান বিসিবির এই কোচ। অভিষেক টেস্টেই বোলিং করেছেন মুমিনুল। ৭৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৫১ ইনিংসে বল হাতে তুলে নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের বাঁহাতি স্পিনে সফল ছিলেন তিনি। মাউন্টমঙ্গানুইয়ে ৪.১ ওভার বোলিং করে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে সিলেটে কিউইদের বিপক্ষে জয়ের টেস্টে ৩.৫ ওভারে নিয়েছিলেন তিন উইকেট। ৫১ ইনিংসে ১৬২.১ ওভার বল করেছেন মুমিনুল।

এই পরিসংখ্যান কোচ সোহেলের ভালো করেই জানা, ‘ও বল করলে উইকেট পায়। ব্রেকথ্রু পাওয়ার জন্য হলেও নিয়মিত বোলিংটা করে যেতে পারে। নিয়মিত বোলিং করলে ৫০ থেকে ৬০ উইকেট থাকত। এখন থেকে ওকে কাজে লাগাতে পারবে অধিনায়ক।’

বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে টেস্টের রেকর্ডবুকে ছোটখাটো একটা স্বীকৃতি আছে মুমিনুলের।  নিজের বোলিংয়ে আরেকটু মনযোগী হলে উইকেটের ঘরে এগারোর জায়গায় ৫০টিও লেখা থাকতে পারত। এই কথা শুনে মুমিনুল মুচকি হেসে বললেন, ‘দেরিতে হলেও ভালো।’ সাবেক এই টেস্ট অধিনায়ক বোলিং নিয়ে অনেক পরিশ্রম করছেন গত দুই মাস। ব্যাটিংয়ের পাঠ শেষ করে বোলারদের নেটে গেছেন। কোচ সোহেল ইসলাম মাঝেমধ্যে মুমিনুলকে কিছু কৌশল দেখিয়েছেন। সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুতও করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার, ‘দলের চাওয়া বোলিং করি। কারণ স্পিনাররা টানা বোলিং করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ওই সময়ে ব্রেক দেওয়ার জন্য কয়েক ওভার করার প্রয়োজন হয়। ব্রেকথ্রু পেতেও বিকল্প বোলার লাগে। অধিনায়ক বলেছে, বোলিংয়ে প্রস্তুতিটা ভালোভাবে নিতে। বোলিংটা করলে আমারও লাভ, দলেরও। এক-দুজন অনিয়মিত বোলার থাকলে বোলিং রোটেট করা সহজ হয়। চেষ্টা করব এখন থেকে নিয়মিত বোলিং করার।’

ইনডোরের পার্শ্ববর্তী নেটে তাইজুলদের সঙ্গে মুমিনুলের বোলিং দেখে খুশি ছিলেন স্পিন কোচ মুস্তাক আহমেদ। পাকিস্তানের সাবেক এ লেগ স্পিনারের চাওয়া ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়ের চর্চাটা রাখবেন মুমিনুল। টেস্টে কতগুলো উইকেট পেয়েছেন বা কত ওভার বোলিং করেছেন, মনে করতে পারছিলেন না তিনি। কোন দলের বিপক্ষে কয়টা উইকেট পেয়েছেন, সে হিসাবও রাখেননি। সেই হিসাবটা এখন থেকে রাখতে চান মুমিনুল। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad