
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ►
বিয়ের দু’বছর পেরুনোর আগেই পার্বতীপুরে ফাল্গুনী রানী রায় (২১) নামে এক গৃহবধু দেশীয় ধারালোর অস্ত্রের আঘাতে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর বাবুপাড়া গ্রামে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকান্ডের প্রায় আধা ঘন্টার মধ্যে পুলিশ ঘাতক স্বামী কনক রায় (২৫) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
সে ওই গ্রামের শ্রী জগো রায়ের পুত্র। পুলিশ ও নিহতের নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় বছর দুয়েক আগে কনক রায়ের সঙ্গে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কিসমত ঘাটাবিল গ্রামের নবকান্তি রায়ের বড় মেয়ে ফাল্গুনী রানীর বিয়ে হয়। বিয়ের ৫ দিনের মাথায় পারিবারিক কলহের জের ধরে শাশুড়ি সরিষা রানী’র জোরাজুড়িতে স্বামী কনক রায়সহ নববধু ফাল্গুনী রানীকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়া হয়।
এ ঘটনার পর থেকে তারা পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়ীতে বসবাস করে আসচ্ছিল। মাত্র ৭ দিন আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কনক রায় তার স্ত্রী ফাল্গুনীকে নিয়ে নারায়নপুর বাবুপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ীতে আসে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ফাল্গুনী রায় প্রতিদিনের মত স্থানীয় মনশা মন্দিরে পূজা দিতে যায়। এ সময় স্বামী কনক রায় ঘটনাস্থলে এসে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে তর্কাতকি শুরু করে।
এরই এক পর্যায়ে কনক রায় তার হাতে থাকা ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে স্ত্রী ফাল্গুনীর মুখে ও মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে সে চিৎকার করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ল্যাম্ব হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু হাসপাতালের পৌছার পূর্বে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
এ দম্পতির কণিকা রানী নামে ৫ মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আব্দুল ওয়াদুদ জানান নিহতের বাবা নবকান্তি রায় বাদী হয়ে আজ বিকালে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘাতক কনক রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।