Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

১০ গ্রাম অন্ধকার, তিন দিনেও মেরামত হয়নি বিদ্যুৎ লাইন

১০ গ্রাম অন্ধকার, তিন দিনেও মেরামত হয়নি বিদ্যুৎ লাইন

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►

কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খুঁটি ভেঙে পড়ে তার ছিড়ে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হলেও পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামে গত তিন দিনেও বিদ্যুৎ চালু হয়নি। অন্ধকারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন গ্রাহকগণ। সেই সাথে বিদ্যুৎ চালিত সরঞ্জামাদি অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা হাত ঘুটিয়ে বসে রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ রাত দিন কাজ করেও লাইন চালু করতে পারছেন না। 

গত রোববার দিবারাতে উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, সোনারায়, বামনডাঙ্গা, বেলকা ইউনিয়নসহ সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে করে অন্তত ২০টি গ্রাম বা মহল্লার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের এই ক্ষতি হয়। 

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলায় ২২টি খুঁটি ভেঙে যায়, ১০টি ট্রান্সফর্মার নষ্ট ও ২০০ স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং ডাল ভেঙে তার ছিড়ে যায়। গ্রাহকদের আবেদন মতে ২০০টি মিটার নষ্ট হয়ে গেছে। সেই সাথে অর্ধশত খুঁটি হেলে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসহ ঠিকাদারের মিলে ৫০ জন জনবল দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ১১টি মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। 

বেলকা ইউনিয়নের হায়দার আলী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তিন দিন থেকে মোবাইল, ল্যাপটব, রাইসকুকার, কারিকুকার, ফ্যান, লাইট, ফ্রি বন্ধ হয়ে রয়েছে। অনেক কষ্ট করে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। সেই সাথে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া মারাত্বকভাবে বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে। ঈদের আগে এই ধরণের দুর্যোগ অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের অটোবাইক চালক ফরমান আলী বলেন, তিন দিন হতে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অটোবাইক চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে গাড়ি চালানো বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ ঠিক হবে তার কোনো ঠিক নাই। ঈদের আগে এই অবস্থা অটোচালকদের আয়ের পথবন্ধ হয়ে গেছে। কম্পিউটার ব্যবসায়ী সালাম মিয়া বলেন, এই ব্যবস্থা দিয়ে তার সংসার চলে। তিনদিন হতে ব্যবসা বন্ধ। কিভাবে সংসার চলবে। বেশি লোকজন নিয়ে কাজ করলে হয়তো তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হত। 

এ প্রসঙ্গে সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আব্দুল বারী বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইনের যে ক্ষতি হয়েছে, আসলে সেটি দ্রুত মেরামত সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ অফিসের ৫০ জন জনবল ১৮ মে হতে দিনরাত কাজ শুরু করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আগে লাইন চালুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে সবগুলো গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন চালু হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad