Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

নীলফামারী প্রতিনিধি ►
নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দেওনাই নদীর ওপর নড়বড়ে একটি বাঁশের সাঁকোই ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হয়ে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছেন। বছরের পর বছর পাকা সেতুর দাবির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ, কাচারী, শিশাতলী, জংলীপাড়া, দুবাছুরি, বল্লমপাঠ, কচুয়া ও দাঁড়িহারা জলঢাকা উপজেলার ডিয়াবাড়ী ও শিমুলবাড়ী গ্রামের মানুষ প্রতিদিন জেলা শহর, ডোমার উপজেলা ও জলঢাকা উপজেলায় যাতায়াত করেন। এছাড়া এই তিন উপজেলা শহরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। নদীর ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দুই ঘাটের সংযোগ রক্ষা করেছে। আরও দেখা যায়, মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীরাও হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। চলাচল করতে গিয়ে অনেকে আবার বাঁশের সাঁকোর ওপর থেকে পড়ে আহত হয়েছেন।

বসুনিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা জীবন রায় বলেন, বাঁশের সাঁকোতে চলাচলে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। এমনকি কয়েকদিন আগে সাঁকোটি ভেঙে পানিতে পড়েছিল। খরা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোরকম নদী পারাপার হলেও বর্ষাকালে নদী পানিতে ভরে থাকায় প্রচণ্ড স্রোতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, গত বছর আমার ছেলে বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। আমরা অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করছি। কৃষকদের যতো মালামাল এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয়।

মোটরসাইকেল আরোহী বিপ্লব রায় বলেন, আমি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার বাসা নদীর ওই পাড়ে। তাই আমাকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে পার হওয়া যায় না। ছেলে মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুলে যেতে পারে না। পাকা ব্রিজের অভাবে রোগীদের পড়তে হয় সবচেয়ে দুর্ভোগে। নাসরিন সুলতানা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করি, তবে পাকা সেতু না থাকায় আমাদের যাতায়াতের অনেক সমস্যা হয়। সরকারের কাছে দাবি দ্রুত একটি ব্রিজ নির্মাণের।

লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। একটি পাকা সেতু হলে হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়বে। ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে আমি এলজিইডি অফিসে অনেকবার যোগাযোগ করেছি।

নীলফামারী স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির হোসেন বলেন, একটি প্রকল্প তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই স্থানে একটি সেতু করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি খুব দ্রুত হয়ে যাবে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad