Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

৫ বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, গৃহবন্দি থাকবেন অং সান সুচি

৫ বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত, গৃহবন্দি থাকবেন অং সান সুচি

অনলাইন ডেস্ক►

মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও সাবেক স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচিকে দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। তবে কারাগারের বাইরে এলেও এখনই পুরোপুরি মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে কারাবন্দি থাকা এই নেত্রীকে এখন থেকে সরকার নির্ধারিত বিশেষ একটি বাড়িতে থাকতে হবে।

মিয়ানমারের বর্তমান সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং জানিয়েছেন, সুচির কারাদণ্ডের বাকি সময়টুকু তিনি কারাগারের পরিবর্তে নিজ গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাবেন। মূলত এটি একটি বিশেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার অংশ হিসেবে করা হয়েছে।

অং সান সুচির আইনি দলের একজন ঘনিষ্ঠ সদস্য জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তাকে রাজধানী নেপিদোর একটি নির্দিষ্ট আবাসে নিয়ে আসা হয়েছে। দীর্ঘ সময় তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে একটি নির্জন কারাগারে বন্দি ছিলেন। আগামী রোববার তার আইনজীবীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। তখন তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৌদ্ধদের একটি বিশেষ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে দেশজুড়ে বহু বন্দির সাজা কমানো হয়েছে এবং অনেককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অং সান সুচির কারাদণ্ডও কমিয়ে আনা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন মামলায় তাকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দফা সাজা কমানোর পর বর্তমানে তার দণ্ড দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ বছরে। অর্থাৎ গৃহবন্দি থাকলেও তাকে আরও প্রায় ১৩ বছরের বেশি সাজা ভোগ করতে হবে। সুচির সমর্থক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে দূরে রাখতেই একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

সুচিকে গৃহবন্দি করার পর মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার একটি সাম্প্রতিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক বছর পর এটিই তার প্রথম কোনো প্রকাশ্য ছবি। ছবিতে দেখা যায়, তিনি একটি কাঠের বেঞ্চে বসে আছেন এবং তার পাশে কঠোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা অবস্থান করছেন। দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও তাকে শান্ত দেখালেও তার বয়সজনিত শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বর্তমানে ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন বলে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।

জাতিসংঘ সুচিকে কারাগার থেকে বাড়িতে স্থানান্তরের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এটি মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত করার একটি ছোট পদক্ষেপ হতে পারে। তবে জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শুধু সুচিকে গৃহবন্দি করা যথেষ্ট নয়; মিয়ানমারের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে তাকেসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে বিনাশর্তে পূর্ণ মুক্তি দিতে হবে।

অং সান সুচি এর আগেও মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর (১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত) গৃহবন্দি ছিলেন। সেই সময়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রের বিশ্বস্ত প্রতীক। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক জান্তা ক্ষমতা দখল করার পর আবারো তাকে বন্দি করা হয়। ওই অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ভয়াবহ সংঘাত ও অস্থিরতা চলছে। মানবাধিকার সংগঠনের মতে, গত কয়েক বছরে দেশটিতে ২২ হাজারেরও বেশি মানুষকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়েছে।

সুচির এই গৃহবন্দি হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ চাপ এবং আন্তর্জাতিক মহলের দাবি কিছুটা মেটানোর জন্যই জান্তা সরকার এই কৌশলী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অং সান সুচি কবে নাগাদ পুরোপুরি মুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ফিরতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad