Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
ফটো কার্ড

‘কত কষ্টে ভাঙা ঘরে থাকতাম, ছেলেটা আর ফিরবে না’

‘কত কষ্টে ভাঙা ঘরে থাকতাম, ছেলেটা আর ফিরবে না’

অনলাইন ডেস্ক ►
নতুন ইটের বাড়ির কাজ শেষ করে ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল পরিবার। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২১ বছরের তারেক রহমানের। টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫ জনের মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার অন্তত ৯ জন ছিলেন হরেক মাল বিক্রেতা। তাদের একজন তারেক।

আজ ভোর ৫টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতদের বেশির ভাগের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। একজনের বাড়ি নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামে।

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতানের ছেলে তারেক রহমান, আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক, আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা, একাব্বরের ছেলে সোহাগ, শহিদুলের ছেলে রবিউল ও সাকিমের ছেলে সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াসও নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পুরোনো মোবাইল, ফেলনা চুল ও নানা ধরনের ব্যবহৃত পণ্য কেনাবেচার কাজ করতেন। প্রায় ২০ দিন আগে তারা ব্যবসার কাজে নোয়াখালী গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরার পথে খরচ বাঁচাতে ফেনী থেকে উত্তরবঙ্গগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে ওঠেন। পথে কালিহাতীতে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অনেকে।

মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সদ্য নির্মাণাধীন ইটের বাড়ির সামনে স্বজনদের আহাজারি। পেশায় হরেক মাল বিক্রেতা দুই ছেলের উপার্জনে বাড়িটি নির্মাণ করছিলেন তারেকের বাবা সুলতান।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে নোয়াখালীতে সাইকেলে ঘুরে হরেক মালের ব্যবসা করত। ওদের টাকায় ভাঙা বাড়িটা নতুন করে তুলছিলাম। এখনো চালা দেওয়া হয়নি। কথা ছিল বাড়ির কাজ শেষ হলে ছোট ছেলেকে বিয়ে দেব। সব শেষ হয়ে গেল।’

মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কত কষ্টে ভাঙা ঘরে থাকতাম। ছেলেরা ফেরি করে আমাদের কষ্টের দিন শেষ করেছিল। আজ শুনলাম, আমার ছেলে আর জীবিত ফিরবে না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহতদের বেশির ভাগই মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি, মজিদপুর, পাকুড়িয়া ও বাতাসপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই ইউনিয়নের এত মানুষের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মান্দা উপজেলার নয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad