• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২০-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ১০:৪৮

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন গাইবান্ধার বিভিন্ন স্পট



নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার ঈদের ছুটিতে পরিবার, প্রিয়জনকে নিয়ে উত্তরবঙ্গের গাইবান্ধা জেলাকে ভ্রমণের ঠিকানা হিসেবে বেছে নিতে পারেন। দেখতে পাবেন নদী, চর, সবুজ প্রান্তর আর নিসর্গের অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে এখানে মিলেছে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, ঐতিহ্য ঘেরা আর রয়েছে আকর্ষণীয় দর্শন প্রিয় ও আধুনিক স্পট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে এসকেএস ইন, মাটির নিচে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার, আলী বাবা থিমপার্ক, ড্রিমল্যান্ড পার্ক, পৌরপার্ক, ঘাঘট লেক, ঘাঘট মিনি পার্ক, ভেরামারা ব্রিজ, বালাসীঘাট, পুরাতন ফুলছড়ির ক্রসবাধ ও হরিপুর তিস্তা ব্রিজ।

এসকেএস ইন রিসোর্ট : শহর থেকে শুধু ৪ কিলোমিটার কলেজ রোডে মাত্র ১০ টাকা অটোরিকশার ভাড়ায় আপনি পৌঁছে যাবেন গাইবান্ধার সব থেকে অত্যাধুনিক রিসোর্ট এসকেএস ইন-এ। রাধাকৃষ্ণপর গ্রামে প্রায় ২০ একর বিস্তীর্ণ জমিতে বিস্তৃত এসকেএস ইন রিসোর্ট। এখানে আছে নানা প্রজাতির গাছ, কৃত্রিম লেক, দৃষ্টিনন্দন পুকুর, ঝুলন্ত সেতু, পানির ফোয়ারা সুইমিং পুল, জিম কিডস জোন, উন্মুক্ত মঞ্চ, সেমিনার কক্ষ প্রকৃতির মাঝে এসব সুবিধা একে নিখুঁত “ডে আউট” গন্তব্যে পরিণত করেছে। এখানে দুইটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খাবার পাওয়া যায়। 
পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য রয়েছে আদর্শ রুম। রাতযাপনের রয়েছে ডিলাক্স, ওয়াটার ভিলা, গার্ডেন ভিউ ভিলা, লেক ফ্রন্ট ভিলা। এছাড়া রয়েছে ফ্যামিলি স্যুট ও এক্সিকিউটিভ টুইন যার ভাড়া ৯ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যারা রাতযাপন করবেন তাদের জন্য রয়েছে এসকেএসইনের নিজস্ব শিল্পীদের পরিচালনায় সন্ধ্যাকালীন গানের আসর। রিসোর্টেও সুইমিং পুলের নীল-স্বচ্ছ পানিতে নেমে বড়রা ৩৫০ টাকায় ও ছোটরা ২৫০ সময় কাটাতে পারবেন একঘণ্টা সময়। ফোর স্টার মানের এই এসকেএস ইনে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২০০ টাকা। সপ্তাহের ৭দিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় কাটানো যায় এখানে। 

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার : শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি-মাটির নিচে নির্মিত এক অপরূপ স্থাপত্য গাইবান্ধা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে, গাইবান্ধা-বালাসী সড়কের পাশে মদনের পাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে নীরবে। উপর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ ঘাসে ঢাকা কোনো বিস্তীর্ণ চারণভূমি। কিন্তু সেই সবুজের আড়ালেই লুকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্থাপত্য নিদর্শন-ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার।
আট বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই সেন্টারটি একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়, এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একসঙ্গে ২০০ জনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২৪টি আবাসিক কক্ষে অফিস, গ্রন্থাগার, এডমিন রুম, রিসেপশন উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা, কেরাম, দাবা ও ব্যাডমিন্টন খেলার সুবিধা, আধুনিক ইন্টারনেট ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নিজস্ব জেনারেটর। স্থাপনাটি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ও প্রাচীর-তারকাঁটা দ্বারা সুরক্ষিত। 

আলী বাবা থিম পার্ক : গাইবান্ধা শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে একটু দূরে গেলেই মিলবে বিনোদনের আরেকটি চমৎকার স্পট। আলী বাবা থিম পার্ক। তিস্তা নদীর পাড়ে, গাইবান্ধা-রংপুর-কুড়িগ্রামের সংযোগ এলাকায়, সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে এই বিনোদন কেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের নতুন আকর্ষণ। 
এখানে প্রবেশ পথেই চোখে পড়ে মহান আল্লাহর ৯৯ নাম খচিত নির্মাণাধীন ২০ মিটার উঁচু ভাস্কর্য। দেয়ালজুড়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার নকশা-জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বায়তুল মোকাররম, মসজিদ আল-আকসা, কাবা শরিফ-সহ আরও নানা ঐতিহ্যের প্রতিরূপ। আছে আলাদিনের চেরাগ, কৃত্রিম পাহাড়, পানির ওপর ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা, আগ্নেয়গিরির লাভা দৃশ্য ও প্রাণীর ভাস্কর্য। পিকনিক স্পট ও রিসোর্ট সুবিধাও রয়েছে।

ড্রিমল্যান্ড পার্ক : শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে অবস্থিত ড্রিমল্যান্ড পার্ক স্থানীয়দের কাছে এটি এক পরিচিত ঠিকানা। একটু আলাদা মাত্রা যোগ করেছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল এই পার্ক। গাইবান্ধা সদর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে অবস্থিত এই পার্ক যেন বিনোদনের সঙ্গে জ্ঞানেরও এক মিলনমেলা। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পৌঁছে যাওয়া যায় এখানে। পার্কে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এখানে স্থাপন করা ২৫৫ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তির ভাস্কর্য। যেন খোলা আকাশের নিচে এক জীবন্ত জ্ঞানভান্ডার।এছাড়া রয়েছে বাংলাদেশের মানচিত্র, পলাশী যুদ্ধের মানচিত্র এবং বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য-যা শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষণীয় ও আকর্ষণীয়। মাত্র ১০ টাকার টিকিট কেটে প্রবেশ করা যায় এই পার্কে। 

গাইবান্ধা পৌর শহরের মধ্যে রয়েছে পৌরপার্ক, ঘাঘট লেক, ঘাঘট মিনি পার্ক, ভেরামারা ব্রিজ। জেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে বালাসীঘাট এবং ১৭ কিলোমিটার দুরে পুরাতন ফুলছড়ির ক্রসবাধ এছাড়া হরিপুর তিস্তা ব্রিজের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার।

এছাড়াও ঐতিহাসিক নিদর্শনের দিক থেকেও জেলার গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ ও প্রত্নতাত্তিক স্থাপনাগুলো জেলার অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে রাজাবিরাট প্রসাদ, নলডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, বামনডাঙ্গার জমিদার বাড়ি, মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ, ভরতখালী কাষ্ঠ মন্দির (কালি মন্দির), ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস, মহিমাগঞ্জ চিনি কল।