• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

ঝড়ো হাওয়ায় হেলে পড়েছে পাকা ধান, বিনষ্টের আশঙ্কা



সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি

গত দুই দিন ধরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান হেলে পড়েছে। সেই সাথে নিচু এলাকার অনেক ধানক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। হেলে পড়া ও পানিতে ডুবে যাওয়া ধান বিনষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। একদিকে দিনমজুর সংকট অন্যদিকে ফসল বিনষ্টের আশঙ্কায় মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বোরো চাষিদের লোকসানের মুখ দেখতে হবে। শান্তিরাম ইউনিয়নের কৃষক তারা মিয়া বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। 

তার বেশির ভাগ জমি নিচু এলাকায়। ইতোমধ্যে তিনি ২ বিঘা জমির ধান কাটামাড়াই করেছেন। কিন্তু ধান ও খড় শুকাতে পারেন নাই। তার মধ্যে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। তার এক বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং পানিতে ডুব ডুব অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি বাদল অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে ডুবে যাবে। পাকা ধান নিয়ে শঙ্কায় রছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বোরো চাষাবাদ হয়েছে ২৬ হাজার ৭৯২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ নিচু এলাকায়। নিচু জমির ধান কাটামাড়াই শুরু হয়েছে। ডাঙ্গা জমির ধান আধাপাকা অস্থায় রয়েছে। আগামী ১৫ হতে ২০ দিনের মধ্যে কাটামাড়াই পুরোদমে শুরু হবে। 

এক বিঘা জমিতে খরচ হয় ১২ হতে ১৫ হাজার টাকা। ফলন ভাল হলে বিঘাতে ধান হয় ২৫ হতে ২৮ মন। বর্তমানে বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার হতে ১হাজার ২০০ টাকা। দহবন্দ ইউনিয়নের কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে ধান কাটা মাড়াইয়ের দিনমজুর সংকট দেখা দিয়েছে। চুক্তি ছাড়া দিনমজুরগণ কোন কাজ করছেন না। বিঘা প্রতি কাটা মাড়াইয়ের জন্য দিতে হচ্ছে ৫ হতে ৬ হাজার টাকা। তাছাড়া বৃষ্টি বাদলের দিনে দিনমজুর পাওয়া আরও দূরহ ব্যাপার। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির জানান, বর্ষা মৌসুমে তো বৃষ্টি বাদল হবে। 

তবে গত দুই দিন হতে যে হারে ঝড়ো হাওয়া বইছে, তাতে  করে ফসলের তেমন ক্ষতি বা বিনষ্টের সম্ভাবনা নেই। তবে নিচু এলাকার ফসল ঘরে তুলতে কৃষকের কষ্ট হবে। সেই সাথে ভুট্টার আটিতে কালচে বর্ণ ধারন করতে পারে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন ভাল হচ্ছে। লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।