• মাধুকর প্রতিনিধি
  • এই মাত্র

তিস্তায় পানি বাড়ায় ভেঙে যাচ্ছে চরের রাস্তাঘাট



সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি

গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সাথে তিস্তার শাখা নদী বা নালাগুলো ভরে যাওয়ায় চরের রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরবাসি চলাচল মারাত্বভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এক চর থেকে অন্য চরের যাওয়ার জন্য নৌকা, বাঁশের টার বা সাঁকো এখন চরবাসির একমাত্র ভরসা। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, ছন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলে চরবাসির দুঃখ কষ্টের সীমা থাকে না। 

একদিকে বেড়ে যায় নদীতে পানি অন্য দিকে ভাঙনে রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়ি এবং ফসলি বিলিন হয় নদীগর্ভে। ইতোমধ্যে উপজেলার কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেই সাথে পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে চরের রাস্তাঘাট। উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের আলম মিয়া বলেন, নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় তার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ওই রাস্তাটি দিয়ে অন্য চরের যাওয়া আসা করা আর সম্ভাব হচ্ছে না। ভেঙে যাওয়া স্থানে হয় বাঁশের টার বা সাঁকো দিতে হবে। 

প্রতিভচর এই ভাবে চলতে হচ্ছে। স্থায়ী ভাবে কোন সমাধান আজও হয়নি। উজান বোচাগাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরের অনেক সড়ক মেরামত করতে হয়। সেই সাথে বিভিন্ন স্থানে বাঁশের টার বা সাঁকো নির্মাণ করে দিতে হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ীভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। বর্ষাকাল আসলে চরবাসির পরিজন নিয়ে শঙ্কায় বসবাস করতে হয়। হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান একান্ত প্রয়োজন। 

তা না হলে চরবাসি কষ্ট কোন দিন দুর হবে না। বর্ষাকাল আসলেই পানি বা ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেই সাথে জিও ব্যাগ ফেলা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান সরকারের ওপর মহলের সিদ্ধানের বিষয়।