- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
নওগাঁর নিয়ামতপুরে চার খুনের ঘটনায় পুলিশি হেফাজতে বাবা-দুই বোন-ভাগনে
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ডাকাতি কিংবা লুটপাটের জন্য নয় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত জেরে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলো নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক ভাবে এই হত্যাকাণ্ড কোন ডাকাতি বা দস্যুতা ওই রকম ঘটনা মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হতে পারে। যে গৃহবধূ মারা গেছে তার কানে এখনো গহনা (দুল) রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদঘাটন শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ প্রকাশ করার আশা ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।
এর আগে সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনের মধ্যে দুইজনকে গলাকেটে ও অপর দুইজনকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে দুবৃর্ত্তরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলো উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় র্দুবৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন নির্মম ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া ও ৯বছরের ছেলে পারভেজের নির্মম মৃত্যুতে ওই এলাকার আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। দ্রুতই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের দৃষ্টান্তর মূলক শাস্তি দাবী করেছে স্থানীয়রা ও নিহতের পরিবার।