- মাধুকর প্রতিনিধি
- ৯ মিনিট আগে
নতুন বইয়ের ঘ্রাণে বছর শুরু গাইবান্ধার শিক্ষার্থীদের
আবু সায়েম শান্ত, গাইবান্ধা►
ভোরের আলো ফোটার আগেই আজ অনেক শিক্ষার্থীর ঘুম ভেঙেছে। নতুন বছরের প্রথম দিন—আর সেই সঙ্গে নতুন বই পাওয়ার অপেক্ষা। ব্যাগ নয়, হাতে তুলে নেওয়া রঙিন বই আর চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে তারা ছুটেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। জানুয়ারির শীতল সকালে বইয়ের কাগজের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন আরও উষ্ণ করে তুলেছে শিক্ষার্থীদের আনন্দ।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বই উৎসব করা হয়নি। তবুও নতুন বইয়ের ঘ্রাণে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার বন্ধুদের দেখাচ্ছে রঙিন প্রচ্ছদ। গাইবান্ধা সদর উপজেল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃত্ত জামানের চোখে-মুখে উজ্জ্বল আনন্দ, “নতুন বই মানেই নতুন শুরু। এবার ভালো করে পড়াশোনা করব।” তার মতো হাজারো কণ্ঠে আজ একই প্রতিশ্রুতি।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবকরাও এই আনন্দের অংশীদার। অনেকেই সন্তানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসেন। শফিউল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলছিলেন, “বছরের শুরুতেই বই পেলে বাচ্চাদের মনোযোগ বাড়ে। পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বেশি থাকে।”
শিক্ষকদের কাছেও দিনটি বিশেষ। “সময়মতো পাঠ্যবই হাতে পাওয়ায় পাঠদান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মিত পড়াশোনা ও সৃজনশীল চর্চার মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।”-এমনটাই বলছিলেন এসকেএস স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ফরহাদ হোসেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্ণণ কুমার দাশ জানিয়েছেন, জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই পৌঁছে গেছে নতুন বই। তার ভাষায়, “জেলার ১ হাজার ৪৬৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৮৫টি কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল এবং ২১৫টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত স্কুলে শতভাগ বই বিতরণ করা হয়েছে।”
এদিকে মাধ্যমিক স্তরে চিত্রটা খানিক ভিন্ন। জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বই হাতে এসেছে। “আমরা প্রায় ৭৫ শতাংশ বই পেয়েছি। সেগুলো ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে। বাকী বইগুলো খুব শীঘ্রই পাবো বলে আশা করি।”