- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনকারীদের শাস্তির দাবিতে ফুলছড়িতে মানববন্ধন
আমিনুল হক, ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
শিশু রামিসা হত্যা, ধর্ষণ এবং সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ মে) সকালে উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছালুয়া এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এসকেএস ফাউন্ডেশনের কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি (সিআরইএ) প্রকল্পের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) কমিটি কর্মসূচিটির আয়োজন করে।
“Justice for Ramisa” শিরোনামে আয়োজিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ফুলছড়ি উপজেলা জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট (জিকা) কমিটির সভাপতি এস এম ইব্রাহিম আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, এসকেএস ফাউন্ডেশনের সিআরইএ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন, প্রজেক্ট অফিসার সুলতানা বাহার, ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জিকা কমিটির সদস্য আমিনুল হক, জিকা কমিটির সদস্য রিনা খাতুন এবং স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক পাপরিন আক্তার।
বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। শিশু রামিসার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত। ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, শুধু নারী নয়, ছেলে শিশুরাও যৌন নির্যাতন ও বলাৎকারের শিকার হচ্ছে। প্রতিবন্ধী, গর্ভবতী নারীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষক পাপরিন আক্তার বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আয়োজকেরা জানান, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।