- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
পাঁচবিবির লতিরাজ কচুতে কৃষকের দিনবদল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি ►
জয়পুরহাটের পাঁচবিবির লতিরাজ কচু কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে। কম খরচে উৎপাদন ও লাভ বেশি এবং রোগবালাই কম হওয়ায় বছরের প্রায় ১০ মাসই চাষ হচ্ছে এ কচুর লতি। এজন্য অন্য ফসলের তুলনায় লতিরাজ কচু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেশি। ফলে এ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় দিন দিন বাড়ছে লতিরাজ কচুর চাষ। এখানকার উৎপাদিত হাজার হাজার টন লতিরাজ কচু যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। পাশাপাশি রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি এবং এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত দুই মৌসুমে লতিরাজ কচু চাষ হয়। এটি দুভাবে রোপণ করা যায়। একটি চারার মাধ্যমে অন্যটি কাণ্ডের মাধ্যমে। কাণ্ড রোপণের এক মাস পর এবং চারা রোপণ করার আড়াই থেকে তিন মাস পর লতিরাজ কচু উৎপাদন শুরু হয়।
এক বিঘা জমিতে লতিরাজ কচু চাষ করতে সবকিছু মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হয় কৃষকের। প্রতি মৌসুমে এক বিঘায় ৬০-৭০ মন কচুর লতি উৎপাদন হয়। লতি ছাড়াও কাণ্ড উৎপাদন হয় ২৫০-২৬০ মণ। বাজারে প্রতি মণ লতি বিক্রি হয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। কাণ্ড বিক্রি হয় ৭০-৯০ টাকা মণ দরে। এতে দেখা যায় এক বিঘা জমিতে লতি ও কাণ্ড মিলে বিক্রি হয় প্রায় ৭০-৯৮ হাজার টাকা। খরচ বাদে চাষীদের লাভ থাকে ৫০-৬০ হাজার টাকা। এ কচু চাষের এক-দুই মাস পর থেকে লতি বিক্রি হয় প্রায় সাত-আট মাস পর্যন্ত।
জানা যায়, ৩০ বছর আগে শখের বসে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাটাবুকা গ্রামের ভূমিহীন কৃষক লুত্ফর রহমান ও আমির আলি জেলায় প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে লতিরাজ কচু চাষ শুরু করেন। অল্প সময়ে এতে উৎপাদন ও লাভ ভালো হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্য কৃষকদের মাঝে এ কচু চাষ। প্রায় সারা বছরই লতিরাজ কচু চাষ হয়। স্বাদে, পুষ্টিতে এবং উৎপাদনে সেরা হওয়ায় খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করায় এটি এখন স্থান পেয়েছে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ে।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, জেলার পাঁচবিবি ও সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লতিরাজ কচু চাষ হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে কচুর লতি চাষ হয়েছে, যা থেকে ৬০ হাজার টন লতি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। লাভ বেশি পাওয়ায় দিন দিন এর চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।