- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
পুনঃখননে প্রাণ ফিরছে দিনাজপুরের নোনা খাড়িতে
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
দীর্ঘদিনের অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল দিনাজপুরের বিরল উপজেলার নোনা খাল। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা, ক্ষতিগ্রস্ত হতো ফসলি জমি। আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত সেচের পানির সংকট। খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছিল, অন্যদিকে স্থানীয় জেলে ও খামারিরাও পড়েছিলেন নানা সমস্যায়।
সম্প্রতি সময়ে খালটি পূর্ণ খননের ফলে সেই চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন পর নোনা খাড়ির পুনঃখনন কাজ শেষ। নোনা খালটির পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন ও কালভার্ট। নোনা খালের দুই পাড়ে মাটি ক্ষয় রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় লাগানো হচ্ছে ঘাসের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষক, জেলে, খামারি ও সাধারণ মানুষ।
দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৬ নম্বর ভান্ডারা ইউনিয়নের পাকুড়া স্থলবন্দর এলাকা থেকে উত্তরে বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত নোনা খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি ও ময়লায় ভরাট হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হয়ে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনে দেখা দিত প্রতিবন্ধকতা। সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের ফসলি জমি ও নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদে ক্ষতির মুখে পড়তেন কৃষকরা।
অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে খাড়িতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকদের সেচের জন্য বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে বেড়ে যেত উৎপাদন খরচ। খালের পানি কমে যাওয়ায় মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রও সংকুচিত হয়ে পড়েছিল বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।
দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, নোনা খাড়ি পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং অক্সিজেনের জোগান বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষ ফল, ছায়া ও অন্যান্য উৎপাদনের মাধ্যমে উপকৃত হবেন।