- মাধুকর প্রতিনিধি
- তারিখঃ ৩-৫-২০২৬, সময়ঃ সন্ধ্যা ০৬:১২
ফুলছড়িতে ১৬ জন দরিদ্র নারী শিক্ষার্থীর মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
এখন আর সকালে স্কুলে হেঁটে যেতে হবে না। প্রতিদিন সকাল ৬টায় প্রাইভেট পড়ে স্কুলে যাই, কিন্তু কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। তাই কষ্ট করে হেঁটেই যেতে হতো। বাবার সামর্থ্য না থাকায় বাইসাইকেল কেনার সুযোগ হয়নি। আজকে সরকারিভাবে বাইসাইকেল পেলাম। এখন আর স্কুলে যেতে কোনো কষ্ট হবে না। এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন গুনভড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী কাকুলি আক্তার। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পি আই সি প্রকল্পের অধীনে উড়িয়া ইউনিয়নের আয়োজনে ১৬ জন দরিদ্র নারী শিক্ষার্থীর মাঝে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পের অর্থায়নে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
বাইসাইকেল পেয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দ ও স্বস্তি দেখা গেছে। নদী বেষ্টিত ফুলছড়ির চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা জন্য ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। আর বাইসাইকেল বিতরণের এ উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের মাঝে৷ রোববার বিকালে উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত ১৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাইসাইকেল তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশা, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহ সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল খায়ের, ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বকুল হোসেন, ২নং উড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শহর আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাইদুল ইসলাম এবং উড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আবেদ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাইসাইকেল বিতরণ উপলক্ষে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। গুনভড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের চর কাবিলপুরের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিথী আক্তার বলেন, চর থেকে সকালে আসি। নদী পার হয়ে কোন যানবাহন পাওয়া যায় না। তাই প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুকে যাই। যেটি আমার জন্য অনেক কষ্টের ছিল। এখন এই বাইসাইকেল দিয়ে নিয়মিত স্কুল যেতে পারব অনেক কষ্ট কম হবে।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীরা আরও মনোযোগী হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতেও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে। সেইসাথে শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হবে।