- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
বর্ষা এলেই পানিবন্দি জীবন, ভেলাই একমাত্র ভরসা
মোস্তাফিজুর রহমান ►
চারদিকে থৈথৈ পানি। সেই পানির মাঝখানে জেগে আছে মাত্র একটি বাড়ি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার একমাত্র সম্বল ছোট্ট একটি ভেলা। দূষিত পানির দুর্গন্ধ, সাপ-পোকামাকড়ের আতঙ্ক আর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া এলাকার বাসিন্দারা।
গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন ডেভিট কোম্পানি পাড়ায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গিয়ে অন্তত ১০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের শিকার হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পানিবন্দি বাসিন্দা মুন্নি বেগম বলেন, ২০১৯ সালে বাড়ি করার পর প্রথমদিকে এত পানি হতো না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে টানা বৃষ্টি হলেই গলা সমান পানি জমে থাকে। বছরের প্রায় চার মাস চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে তৈরি ভেলায় করে সন্তানদের স্কুলে নেওয়া-আনা ও দৈনন্দিন কাজ করতে হয়। রাতে সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঘুমাতে পারি না। দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে গেছে। এখানে একটি রাস্তা নির্মাণ হলে জলাবদ্ধতা থেকে অনেকটা মুক্তি পেতাম।

আরেক বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার বাড়ি তলিয়ে গেছে। ঘরে বুকসমান পানি। তাই যেখানে গৃহকর্মীর কাজ করি, সেই বাসাতেই আশ্রয় নিয়েছি। ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমাদের খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আফরোজা বেগম বলেন, ঘরে পানি ওঠায় রান্না করতে খুব কষ্ট হয়। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার কারণে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। রাতে দুই পায়ে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। আমার স্বামী রাতে কাজ শেষে হাঁটু-সমান থেকে কোমর-সমান পানি পেরিয়ে বাড়ি ফেরেন। তখন সাপ-পোকামাকড়ের ভয় থাকে। বহুবার মাপজোক হলেও আজ পর্যন্ত কোনো রাস্তা নির্মাণ হয়নি। একটি স্থায়ী রাস্তা হলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যেত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যায় ভুগলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তারও দাবি জানিয়েছেন তারা।