- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
বিশ্বজুড়ে রাতারাতি দামি হয়ে উঠছে পুরনো বই, নেপথ্যে এআই?
অনলাইন ডেস্ক ►
হটাৎ করেই বিশ্বজুড়ে পুরনো বইয়ের বাজারে দেখা দিয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। গত কয়েক মাস ধরে স্বাধীন বই বিক্রেতারা লক্ষ্য করছেন, পুরনো বইয়ের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের একক অর্ডার আসছে। কিন্তু বইগুলো আসলে কোথায় যাচ্ছে বা কারা কিনছে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই বিক্রেতাদের। যুক্তরাজ্যের নর্থাম্বারল্যান্ডের বার্টার বুকসের স্টুয়ার্ট ম্যানলে জানান, ৩০ বছরের ব্যবসায় তিনি কখনো একসঙ্গে এত বড় অর্ডার দেখেননি।
তার মতে, বিশ্বজুড়েই বিক্রেতাদের একই অভিজ্ঞতা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষিত করার জন্যই পাইকারি দরে পুরনো বই কিনে নিচ্ছে এআইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সন্দেহের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের রায়ের বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২৫ সালে অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে তিন লেখকের করা এক মামলার রায়ে বলা হয়েছিল, পুরনো বই কিনে তা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইট আইন লঙ্ঘিত হবে না। সম্প্রতি আদালতের প্রকাশিত নথিপত্র থেকে জানা যায়, ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বইগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এআই চ্যাটবট গ্রককে প্রশিক্ষিত করতে বইগুলো ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়ায় স্ক্যান করা হতো। এই পদ্ধতিতে প্রথমে বইয়ের বাঁধাই খুলে ফেলা হয় এবং এরপর প্রতিটি পাতা মেশিনের মাধ্যমে স্ক্যান করা হয়। তবে কোন উদ্দেশ্যে এই বইগুলো কেনা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ ওয়েস্টার্ন ফিকশন থেকে শুরু করে প্রাচীন লাতিন ভাষার বই— সব ধরনের বইয়েরই চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বই বিক্রেতাদের মনে নৈতিক দ্বন্দ্ব কাজ করলেও, দুর্লভ নয় এমন অপ্রয়োজনীয় বইয়ের পুনঃব্যবহারকে অনেকে আবার পুরোপুরি মন্দ হিসেবে দেখছেন না।