- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
শেষ মুর্হুতে জমে উঠছে নওগাঁর পশুর হাট কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►
শেষ সময়ে জমে উঠেছে নওগাঁর প্রতিটি কোরবানীর পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনা আর হাক-ডাকে মুখর হয়ে উঠেছে হাটগুলো। কিন্তু হাটে ক্রেতা আর বিক্রেতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এবার প্রতিটি হাটে ক্রেতার চেয়ে পশুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দাম অনেকটাই হাতের নাগালে রয়েছে। আবার দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের মুখে হাসি দেখা গেলেও লালন-পালন করা পশু লোকসান দিয়ে বিক্রি করে বিক্রেতারা মলিন মুখে বাড়ি ফিরছেন।
এদিকে গবাদিপশু লালন-পালনের সকল উপকরণের দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে ছোট ছোট খামারীদের। অনেকেই হাট না ঘুরে কিছুটা কম দামেই পশু বিক্রি করছেন। আবার শেষ সময়ে এসে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে গরু বাংলাদেশে আসার কারণে দেশীয় গবাদিপশুর দাম না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন নওগাঁর প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীরা। আবার হাট ইজাদাররা বলছেন শেষের দিকে যখন হাটে ক্রেতাদের আগমন আরো বেশি হবে তখন পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে। এছাড়া হাটগুলোতে জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া হাসিল আদায় করা হচ্ছে কিনা সেই বিষয়টি কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত টিম। জেলার পশুর হাটগুলোতে জেলা প্রশাসনের এমন জনহিতকর কার্যক্রমে স্বস্তি প্রকাশ করেছে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারীরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা: গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ও প্রান্তিক পর্যায়ের ৩৮ হাজার ৯শত ৯ জন খামারীরা তাদের গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। প্রতিটি খামারীদের প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদিপশু বড় করার পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া গবাদিপশু লালন-পালনের কার্যক্রম কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন খামারে ২ লাখ গরু, ৫ লাখ ১৪ হাজার ছাগল, ৮০ হাজার ভেড়া ও ২ হাজার মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে যা বর্তমানে হাটে বিক্রি করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিটি হাটে গবাদিপশু পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চলতি বছর নওগাঁয় কুরবানীর জন্য বিভিন্ন গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার আর অতিরিক্ত গবাদিপশু রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার যে গবাদিপশুগুলো নওগাঁর খামারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে লাভবান হতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, নওগাঁর প্রতিটি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সাদা পোষাকেও পুলিশ সদস্যরা হাটের নিরাপত্তা প্রদান কাজে নিয়োজিত রয়েছে। হাটে পকেটমার থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা হাটগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া জেলার বাহির থেকে আসা ক্রেতাদের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনে এবং রাতে অতিরিক্ত টহল পুলিশ নিয়োজিত রেখে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনগুলোতে তল্লাসী করার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় পশু যেন নওগাঁর হাটগুলোতে প্রবেশ করতে না পারে সেই বিষয়টি বিজিবির সঙ্গে জেলা পুলিশও কঠোর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলায় গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
মাধুকর/এমআর