- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
সাঘাটার ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাণিজ্যিক স্থাপনা!
সাঘাটা প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সাঘাটার ঐতিহ্যবাহী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের প্রায় ৪২ শতক জমি লিজ নিয়ে এক দশক ধরে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনের পূর্ব পাশেই ইট- পাথরের অবকাঠামোয় চলছে পেট্রোল পাম্প। ১০ বছরের লিজের মেয়াদ গত ১ আগস্ট শেষ হলেও স্থাপনাটি এখনো অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি । এতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বড় একটি অংশ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। জানা যায় চুক্তিপত্র অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৫০০ বর্গফুট, অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতক জমি মাত্র ১৮ হাজার টাকা জামানত এবং মাসিক ১ হাজার ৫ শত টাকা ভাড়ায় লিজ দেওয়া হয়।
২০১৬ সালের ১ আগস্ট সম্পাদিত ওই চুক্তির মেয়াদ ছিল ১০ বছর। কম টাকা জামানত এবং মাসিক ভাড়ায় লিজ দেয়া নিয়ে শুরু প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু লিজ গ্রহিতা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তা কাজে আসেনি। বর্তমানে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও স্থাপনা বহাল থাকায় এখন ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনমনে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক যোগসাজশে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি অংশকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে তা নামেমাত্র অর্থের বিনিময়ে মেসার্স জাহানারা হক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান পারভেজ রোমানকে লিজ দেয়। লিজ গ্রহিতা রোমান সেখানে অস্থায়ী ব্যবহারের পরিবর্তে ইট-পাথরের স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে তেলের পাম্প চালু করেন।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াপ্রেমী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় বিদ্যালয়ের মাঠটি অনেক বড় ছিল। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ততকালীন প্রভাব খাটিয়ে মাঠের প্রায় দেড় বিঘা জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশে স্থাপনাটি অপসারণ করে বিদ্যালয় মাঠটি উন্মুক্ত করা জরুরি।’গত ১৭ আগস্ট বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরাও মাঠ দখলমুক্ত করার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স জাহানারা হক এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান পারভেজ রোমানকে মুঠোফোনে দফায় দফায় কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জীবিত না থাকায় তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, নতুন কমিটি আসার সাথেই নোটিশ করে স্থাপনা গুলো অপসারণ করা হবে।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীর বলেন, ওই বিষয় গুলো বিদ্যালয়ের কতৃপক্ষের এখতিয়ার তারা যদি চায় বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে লিজ দেয়া প্রয়োজন,দিতে পারেন। তার পরেও খোঁজখবর নিয়ে লিজের বিষয়ে জানানো যাবে।