- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
সাঘাটায় স্বধর্মে ফেরায় গৃহবধূকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
সাঘাটা প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ইউনিয়নের আমদিরপাড়া গ্রামে স্বধর্মে ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে বগুড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নির্যাতিতার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে পূর্বে ধর্মান্তরিত হওয়ার কিছুদিন পরেই ওই নারী নিজের ভুল বুঝতে পেরে তার রেখে যাওয়া সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পিতার বাড়ীতে গিয়ে অবস্থান নিয়ে পুনরায় আইন অনুযায়ী সনাতন ধর্মে ফিরেন এবং পূর্বে স্বামীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এদিকে ধর্মান্তরিত হওয়া নারীকে পুনরায় বিয়ে করার অপরাধে সমাজ থেকে স্বামীর পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়। এর পরেও পরিবারের ফিরে আসার জন্য স্বামী এবং সন্তানের সাথে যোগাযোগের দীর্ঘ ৬ মাস পর গত ২৮ জুন (শনিবার) ৮ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত সন্তানের সাথে বাড়িতে ফেরেন ওই নারী।
পরদিন সমাজের লোকজন তাকে সমাজে পুনরায় স্থান পেতে হলে মাথা ন্যাড়া করার শর্ত দেওয়া হয়। তিনি এতে অসম্মতি জানালে ওই নারীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে একটি নারকেল গাছের সঙ্গে ২ ঘন্টাব্যাপী বেঁধে রেখে জনসম্মুখে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং তাকে অপমানজনক আচরণেরও শিকার হতে হয় বলে পরিবারের দাবি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই নারীর ওড়না খুলে নেওয়া হয়। দৃশ্য দেখে এক কৃষক দর্শক তাকে নিজের গামছা ছঁড়ে দিলে ওই নারী গামছা দিয়ে শরীর ঢাকার চেষ্টা করলে সেটিও খুলে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এমনটাও ভিডিওতে শোনা যায়।
পরিবারের দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরো ঘটনার সামান্য অংশ মাত্র; এছাড়াও আরও দীর্ঘ সময় ধরে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে ।” সাঘাটা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গৌতম কুমার চন্দ বলেন, “ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কোনো নারীকে অপমান বা নির্যাতনের সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পবন কুমার সরকার বলেন, “কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস বা স্বধর্মে ফিরে আসা সংবিধানস্বীকৃত অধিকার। এ ধরনের ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন নারীকে প্রকাশ্যে অপদস্থ ও নির্যাতনের অভিযোগ দেশের আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করবে।” সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।