- মাধুকর প্রতিনিধি
- এই মাত্র
সৈয়দপুরে জীবনের নিরাপত্তার দাবি কয়েকটি পরিবারের
সৈয়দপুর প্রতিনিধি ►
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তদন্তে আসায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা করে আহত করা হয়েছে নারী ও শিশুসহ প্রায় ১০ জনকে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে হেলমেট বাহিনী। এতে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কয়েকটি পরিবার। এই ঘটনা ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের উত্তর সোনাখুলী শ্যামলাপাড়ায়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন, আহত আলামিনের স্ত্রী রায়হানা বেগম (৩৮), মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৫২), মইনুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৪৫), নুর ইসলামের স্ত্রী ফুলু আক্তারা (৪২) ও খায়রুল ইসলামের স্ত্রী হাসিনা বেগম (৪০)। এসময় ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। রায়হানা বেগম জানান, আমার শ্বশুর আশরাফ আলী ও তার বংশের অন্য শরিক আফসার আলী গংয়ের মধ্যে ১ একর ৯ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। এর প্রেক্ষিতে ২০২০ সাল থেকে আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলছে। এরই ভিত্তিতে গত ২২ জুন দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসেন তদন্তে। তিনি চলে যাওয়ার পরে আমার ভাসুর ময়নুল ইসলাম বাজারে যাওয়ার সময় বাঁশঝাড়ের কাছে প্রতিপক্ষ আশরাফ আলীর ছেলে আনিসুল, গাউসুল ও ফেরদৌসসহ হেলমেট পরিহিত অজ্ঞাত ১৫-২০ জন আটক করে বেদম মারপিট করে। খবর পেয়ে আমরা বাড়ির নারী ও শিশুরা গেলে হামলাকারীরা আমাদের উপরও চড়াও হয় এবং অবর্ণনীয় মারধর করে।
পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসলে হেলমেট বাহিনী মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় একজনকে আটক করলে সে মোটর সাইকেল ফেলে রেখে কৌশলে পালায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুল গংরা ফিরে এসে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু সিহাব (১৪), আরাফাত (৭) ও মোহনা (৫) কে একহাতে গলা চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে মারধর করে। প্রতিবেশী বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম বলেন, এসি ল্যান্ড আসায় এলাকার লোকজন কৌতূহলী হয়ে দেখতে আসলে তাদেরকে বাধা দেয় আশরাফ আলীর ছেলেরা। এলাকাবাসী তাদের কথা না মানায় বিকেলে বাইরে থেকে হেলমেট পড়া লোক ভাড়া করে এনে ময়নুলকে আটকে মারধর করে। এতে প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী বেশ কয়েকজনকেও মারে। তারা আইন মানেনা।
হাসিনা বেগম বলেন, এসি ল্যান্ড আসার খবর পাওয়ার পর থেকেই আশরাফ আলী, আকবর আলী, ইসাহাক আলী ও আসাদুল হক পরিবারের লোকজন আমাদের দেখা মাত্র হাত-পা কেটে দিবে, মেরে ফেলে লাশ গুম করবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। তদন্ত শেষে এসি ল্যান্ড স্যার মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতিপক্ষদের জমিতে না যাওয়ার জন্য বলে যান। অথচ তিনি চলে যাওয়ার পরেই তারা ভারাটিয়া হেলমেট বাহিনী এনে ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো তারা হুমকি দিচ্ছে। অথচ থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও তা নেওয়া হয়নি। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের পরিবারের কেউ বাইরে যেতে পারছিনা। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে পারছিনা। এর বিচার চাই। তার আগে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।